Tuesday 31 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

তথ্য দিতে চায় না ১/১১’র মাস্টার মাইন্ডরা, গ্রেফতার হবে আরও

উজ্জল জিসান স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩১ মার্চ ২০২৬ ২২:১৮ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ২২:৫৬

১/১১’র মাস্টার মাইন্ড মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, মামুন খালেদ ও আফজাল নাছের। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

ঢাকা: গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেফতার ১/১১’র মাস্টারমাইন্ডরা তথ্য দিতে গড়িমসি করছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই মিলছে না। ফলে মামলার তদন্তে সময় লাগতে পারে। তাছাড়া উচ্চপদস্ত কর্মকর্তা ছিলেন এমন অজুহাতে তথ্য দিতে সময় ক্ষেপণ করছেন তারা। তবে তাদের তথ্যমতেই ২৯ মার্চ গভীর রাতে আরেক কুশীলব আফজাল নাছেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরই মধ্যে আদালত তার বিরুদ্ধে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

এর আগে গত ২৩ মার্চ রাতে ডিবির একটি বিশেষ দল রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস’র একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুদকে ২৪ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এ ছাড়া, ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন থানায় জুলাই আন্দোলনের একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। তিনি বর্তমানে ডিবি হেফাজতে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে রয়েছে। ১/১১’র অন্যতম কুশীলবদের একজন এই মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। গোয়েন্দাদের ধারণা, ওই সময়ে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালনকারীদের একজন ছিলেন তিনি।

১/১১ সরকারের আরেক কুশীলব শেখ মামুন খালেদ। তারেক রহমানকে গ্রেফতারের পর নির্যাতন ও গুম-খুনের মহানায়ক ডিজিএফআই’র সাবেক এই কর্মকর্তা। ওই সময়ে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন উদ্দিন আহমেদের অপরাধ যদি হয় ১০০ ভাগ, তাহলে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, মামুন খালেদ ও আফজাল নাছেরের অপরাধ হবে ৯৯ ভাগ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম সারাবংলাকে বলেন, ‘আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তাদের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ আছে, তা বিচার বিশ্লেষণ করছি। এটা তদন্তের বিষয়।’

গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, ১/১১’র আগে তত্ত্বাবধায় সরকারের প্রধান ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে চাপ দিয়েছিলেন মাসুদসহ ছয় সেনা কর্মকর্তা। বাকিদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, সেই সময় গ্রেফতার-নির্যাতন, দুর্নীতি, জিম্মি করে অর্থ আদায়সহ নানা অভিযোগ জানাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই যোগাযোগ করছেন। আমরা বলেছি, আপনারা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দেন, আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।’

এদিকে এদের বাইরে আরও যাদের নাম তদন্তে উঠে এসেছে তারাও খুব শিগগিরই গ্রেফতার হবে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে ১/১১সহ সব বিষয়ে তথ্য জানা যাচ্ছে। প্রথমে কিছুটা গড়িমসি করলেও এখন তথ্য দিচ্ছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ আরও বেশ কয়েকজন নজদারিতে রয়েছে। তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, কাকে গুম করতে হবে, কাকে ধরে আনতে হবে, কাকে নির্যাতন করতে হবে, কোন ব্যবসায়ীকে ধরে এনে সম্পত্তি ও টাকা লুট করা হবে, কার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে সম্পদ লুট করতে হবে এবং কাকে জেলে ভরে রাখতে হবে তার মাস্টারপ্ল্যান করতেন ডিজিএফআই’র কর্মকর্তারা। যাদের সঙ্গে আরও ৩/৪ জন সাবেক কর্মকর্তা রয়েছেন।

এদের মধ্যে শেখ মামুন খালেদ গুমের প্রধান উদ্যোক্তা। কাকে ধরে এনে আয়না ঘরে রাখতে হবে, কতদিন রাখতে হবে- তার নির্দেশনায় ছিলেন এই মামুন খালেদ। মামুন আওয়ামী লীগের (সাময়িক কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বিভিন্ন নেতা ও এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে মিলেমিশে এসব জঘন্য অপকর্ম করতেন বলে জানিয়েছে ডিবির কর্মকর্তারা।

মামুন খালেদ ও মাসুদ চৌধূরীদের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের নির্বাচনে লাখ লাখ ব্যালট পেপার বেশি ছাপানোর অভিযোগ রয়েছে। ওই সময়ের সেনাপ্রধান মঈন উদ্দিন আহমদের নির্দেশে তারা ব্যালট পেপারগুলো ছাপিয়েছিলেন। সেই ব্যালট পেপার আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতার গাড়িতে দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছিল ডিজিএফআই।

নির্দেশনা ছিল ওই সময়ের বিএনপি জামায়াত জোটকে ৩০টির বেশি আসন দেওয়া যাবে না। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের গোয়েন্দা রিপোর্ট ছিল প্রায় ১৩০ আসন পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল বিএনপি জামায়াত জোটের। শেষ পর্ন্ত তাই হয়েছে, যা ডিজিএফআই চেয়েছে। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ওইসব সেনা কর্মকর্তাদের পদ-পদবি দেওয়া হয় এবং তারা অঢেল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে থাকেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে অপমান করে বের করে দেওয়ার পেছনেও মামুন খালেদ ও আফজাল নাছেরের অন্যতম ভূমিকা রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে টেনে-হিঁচড়ে বের করার পেছনে তাদের দীর্ঘদিনের ষড়যন্ত্র ছিল। এমন নানান অভিযোগ নিয়ে ১/১১’র কুশীলবদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দারা।

সারাবাংলা/ইউজে/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

উজ্জল জিসান - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর