ঢাবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে আসায় প্রায় ত্রিশজন কিশোর-তরুণকে কানে ধরিয়ে উঠবস করিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সদস্য সর্বমিত্র চাকমা।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব কোণায় প্রায় ৩০ জন তরুণকে একটি সারিতে দাঁড় করিয়ে কান ধরে উঠবস করানো হচ্ছে। তাদের সবার বয়স ১৩ থেকে ২১-২২ এর মধ্যে বলে ধারণা করা যায়। তাদের সামনে একটি লাঠি হাতে পায়চারি করছেন ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এছাড়াও ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনও সেখানে ছিলেন বলে সর্বমিত্র চাকমা জানিয়েছেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি গত ৬ জানুয়ারি বিকেল ৪ টা ৪৪ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পশ্চিম দিক থেকে ধারণ করা হয়েছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও প্রায়ই বহিরাগত কিশোর-তরুণরা খেলতে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে একাধিকবার বাধা দেওয়া হলেও তা মানেননি।
এ বিষয়ে ডাকসুর সদস্য সর্বমিত্র চাকমা বলেন, এখানে বাইরের শিক্ষার্থীরা খেলতে আসে। তাদের খেলতে বাধা দিলে বের হয়ে ইট-পাটকেল ছোড়ে। ওখানকার কর্মচারীরাও এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এছাড়াও আমাদের শিক্ষার্থীদের মানিব্যাগ চুরি হয়। কিছুদিন আগেও ফোন চুরি হয়েছে। বারবার তাদের বারণ করা হয়েছে এসব কারণে।
তিনি আরো বলেন, এখানে সবচেয়ে বড় দোষ বলব কোষাধ্যক্ষের। কারণ এ দেয়াল করার জন্য বারবার তার কাছে ফাইল পাঠানো হলেও তিনি অনুমোদন করেননি। বরং ফাইল ফিরিয়ে দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ করেন।
কান ধরার ঘটনায় নির্দেশ দিয়েছেন কি-না, উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ। নির্দেশ দিয়েছি। এখানে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ছিলেন। এছাড়াও অন্যান্য কর্মচারীরাও ছিলেন।
সর্বমিত্র কাউকে কান ধরাতে পারেন কী না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার যদি কোনো সাস্টেইনেবল সমাধান না আসে, তাহলে আমাকে তো ব্যবস্থা নিতে হবে। এখানে বহিরাগতরা বারবার প্রবেশ করছে, তাহলে আপনি কী করবেন?
তাদেরকে ডাকসু আসার আগে থেকেই এই মাঠে না খেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাও তারা শুনছে না। এখানে শিক্ষার্থীদের অভিমত আপনাকে বুঝতে হবে।
ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান বলেন, এ বিষয়ে বারবার আমাদের ওপর দায় আসে। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি, বহিরাগত আসে। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে আমরা মৌখিকভাবে কাজটা করেছি আমাদের জায়গা থেকে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে যেটা ভালো হয়, আমরা সেটাই করেছি।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, এমন কোনো ভিডিওর বিষয়ে অবগত নই। তবে প্রত্যেক বিষয়ের নিয়ম রয়েছে। খেলতে আসলে নিয়ম অনুযায়ী অনুমতি নিয়ে খেলতে আসবে।
একজন সদস্য কাউকে কানে ধরাতে পারেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সদস্যের সঙ্গে কী হয়েছে, তা না জেনে আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছি না। আমি তার সঙ্গে কথা বলে দেখব।