Monday 26 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সমালোচনার মুখে ডাকসু থেকে পদত্যাগের ঘোষণা সর্বমিত্রের

ঢাবি করেস্পন্ডেন্ট
২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪৯ | আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:১২

সর্বমিত্র চাকমা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে আসায় প্রায় ত্রিশজন শিশু-কিশোরকে কানে ধরিয়ে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। একইসঙ্গে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ ও নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ভিত্তিক ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ গ্রুপ- ২’ এ নিজ আইডি থেকে এক পোস্টের মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে একাধিক বার ফোনকল করা হলেও সাড়া মেলেনি সর্বমিত্রের।

বিজ্ঞাপন

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে নিজ আইডিতে আরেকটি ফেসবুক পোস্ট দেন। তবে সেখানে পদত্যাগের ঘোষণা দেননি তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ– ২ গ্রুপে দেওয়া ফেসবুক পোস্টের তিনি লিখেন, ‘প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘একইসঙ্গে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, কারও প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন, আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে ,আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ফেসবুক পোস্টের ব্যাখ্যায় তিনি লিখেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’

ডাকসুর এ সদস্য আরও লেখেন, ‘এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।’

‘বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।’

এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সর্বমিত্র চাকমার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিশু নির্যাতনের অভিযোগ এনে সমালোচনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং জগন্নাথ হল সংসদের সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক কথক বিশ্বাস সর্বমিত্র চাকমার ডাকসু সদস্য পদের প্রতি অনাস্থা স্থাপন করে গণস্বাক্ষর এর আয়োজন করেন।

এ ছাড়াও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল সংসদের ১৮ জন ছাত্রদলপন্থী নেতারা সর্বমিত্র চাকমার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ এনে নিন্দা জ্ঞাপন করেন।

সারাবাংলা/কেকে/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর