রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দেশের উচ্চতর গবেষণার একমাত্র কেন্দ্র ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস)-এর সুবর্ণ জয়ন্তী ও ১৫তম ত্রি-বার্ষিক এলামনাই সম্মেলন উপলক্ষ্যে গবেষকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রায় তিন শতাধিক পিএইচডি ডিগ্রিধারী গবেষক এতে অংশ নেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব।
এ সময় স্বাগত বক্তব্যে আইবিএস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক বলেন, ‘দীর্ঘ ৫০ বছর অতিক্রম করে আমরা আজ এই অবস্থায় দাঁড়িয়েছি। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে বিষয়াবলীকে কেন্দ্র করে আইবিএসের যাত্রা শুরু হয়। এটি যখন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন এটি একমাত্র প্রতিষ্ঠান ছিল যা বাংলাদেশ বিষয়াবলি নিয়ে কাজ করতো। বাংলাদেশ বিষয়াবলীকে একটি সুন্দর প্রক্রিয়ায় গবেষণার মধ্যে আনার জন্য আইবিএসের যে নিরলস পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা তা সত্যিই প্রসংশনীয়।’
সুবর্ণ জয়ন্তী বক্তার বক্তব্যে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুহিবউল্যাহ সিদ্দিকী বলেন, ‘মানবজীবন আর মানবসম্পদের মধ্যকার বিজ্ঞানের সম্পর্ক রয়েছে। বিগত কয়েক দশকে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তির উন্নয়নে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছে। তারই ফলপ্রসূতি সকল জায়গায় বিজ্ঞানের ক্ষেত্রগুলো অগ্নি শিখার মতো প্রসারতা লাভ করেছে। রাবির আইবিএস বাংলাদেশের একটি গবেষণার প্রাণকেন্দ্র। এখান থেকে অসংখ্য কৃতি শিক্ষার্থী পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন দেশের বিভিন্ন সেক্টরে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছে। দেশের উন্নয়নেও রাবির আইবিএস নীরবে কাজ করে যাচ্ছে বলে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘এ ধরণের (আইবিএস) প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের আর কোথাও নেই। যেখানে অনেকগুলো প্রজেক্টে অসংখ্য মানুষ কাজ করে। আমি দেশের যে প্রান্তেই যাই কোনো গবেষকের সঙ্গে দেখা হলে প্রথমে এসে পরিচয় দেন ‘স্যার আমি কিন্তু আইবিএস -এ পিএইচডি করেছি। নিঃসন্দেহে এটা দেশের অন্যতম সেরা একটি প্রতিষ্ঠান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইবিএসের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো শুধু প্রজেক্ট নয়, পলিসি নিয়েও কাজ করা। বাংলাদেশের সকল সমস্যা নিয়ে আইবিএস কাজ করতে পারে। আমি মনে করি তাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করা উচিত।’
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে আইবিএস-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের ৬০০ জন ডিগ্রি প্রাপ্ত হয়েছে। কয়েকবছরের মধ্যে তা হাজার অতিক্রম করবে। শুধু অর্থনৈতিক নয় এজন্য প্রয়োজন মানসিক সাপোর্ট। আমরা চেষ্টা করছি যেন আমাদের গবেষণাগুলো রাষ্ট্রিয়ভাবে অবদান রাখতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আবাসনের একটা সমস্যা আছে। বিষয়টি আমরা ইউজিসিকে জানিয়েছি। ভবনের পরিকল্পনা প্রায় শেষের দিকে।’
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন।