নোবিপ্রবি: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) রাস্তা সংস্কার ও পরিবহণ শেডের প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকার প্রকল্পে নিয়োজিত নির্বাহী প্রকৌশলীকে হুমকি ও হেনস্তার মাধ্যমে বিল আটকানোর চেষ্টা এবং ম্যানেজারকে জিম্মি করে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. জাহিদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান ও সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম।
সম্প্রতি নোবিপ্রবিতে ২ কোটি ২৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে আরসিসি রাস্তার ঢালাই এবং ১ কোটি ৪১ লাখ ৬১ হাজার টাকা ব্যয়ে পরিবহণ শেড নির্মাণ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়। নির্মাণকাজ শেষে বিল উত্থাপনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
ভুক্তভোগী প্রকৌশলী জানান, গত ৮ থেকে ১০ দিন আগে ছাত্রদলের জাহিদ ও হাসিব অফিসে এসে তাকে বিল ফাইনাল না করার কথা বলেন। পরে বিষয়টি ট্রেজারারকে জানালে নিয়ম অনুযায়ী তিনি কাজ চালিয়ে যেতে বলেন।
তিনি আরও জানান, এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জানুয়ারি বুধবার সকাল ১১টার দিকে সাধারণ সম্পাদক হাসিব ফোন করে বিল উত্থাপন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এর কিছুক্ষণ পর হাসিব ও সভাপতি জাহিদ একটি গ্রুপ কলে তাকে যুক্ত করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং ১২ তারিখের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলে ‘ঠ্যাং ভেঙ্গে দেওয়ার’ হুমকি দেন।
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দফতরের প্রধান, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ও কর্মকর্তা এবং প্রশাসনকে অবহিত করে রেখেছি।’
এদিকে চাঁদা দাবির বিষয়ে আরেক ভুক্তভোগী ওই দুই প্রকল্পের ম্যানেজার রোমেল জানান, ১৫ ডিসেম্বর প্রশাসনিক ভবন থেকে বিল সংক্রান্ত কাজ শেষ করে বের হলে ছাত্রদলের একজন তাকে ডেকে সংস্কার-কাজ চলমান ক্যাফেটেরিয়ার ভেতরে নিয়ে যায় এবং তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে। একপর্যায়ে একজন তার শার্টের কলার চেপে ধরে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে সেখানে ছাত্রদল নেতা আমিনুল এসে টাকা দেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করার প্রস্তাব দেন।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে তাকে প্রশান্তি পার্কের চা-দোকানে নিয়ে দুই লাখ টাকা না দিলে প্রক্টর অফিসে এবং পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। সেখানেও টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কয়েকজন ছাত্রদল কর্মীর মাধ্যমে তাকে প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করা হয়। এরপর প্রক্টর তাকে বসিয়ে রেখে অন্য কাজে বের হন। এ সময় আমিনুল আবার এসে সভাপতির সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে জানিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু তখনও টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। শেষে প্রক্টর অফিসে আসলে তার কাছে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান তিনি।
রুমেল বলেন, ‘জামানতসহ আমার প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা এখনো বিল বাকি আছে। আমি তাদের চাওয়া মতো টাকা না দেওয়ায় এখন শুনছি এই বিল আটকানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়-প্রশাসনের লোকদেরও তারা হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।’
অভিযুক্ত ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি রুমেলের থেকে কোনো প্রকার চাঁদা দাবি করিনি। ছাত্রলীগের দোসর হওয়ার কারণে তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গিয়েছিলাম। কেননা তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের আমলে অনেক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করার অভিযোগ রয়েছে। কতো শিক্ষার্থী তার কারণে ঝামেলায় পড়েছে তার শেষ নেই। আমি ভিডিও-স্টেটমেন্টে সব বলব। কিন্তু চাঁদার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
অভিযোগ অস্বীকার করে সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল বলেন, ‘আমি এবং নোবিপ্রবি ছাত্রদল এই রকম কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নই। জুলাই আন্দোলনের পর থেকে একমাত্র নোবিপ্রবি ছাত্রদল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে আসছে। আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যই তারা এসব গুজব ছড়াচ্ছে।’
এ ছাড়াও সভাপতি জাহিদ অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হচ্ছে সেটার কাউকেই আমি চিনি না। নোবিপ্রবি ছাত্রদলের কোনো সদস্য এর সঙ্গে জড়িত নয়।’
এদিকে ঠিকাদারকে প্রক্টর অফিসে সোপর্দের বিষয়ে প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, ‘রুমেল নামে এক ঠিকাদারকে কয়েকজন মিলে আমার অফিসে নিয়ে আসে। ছাত্রলীগের সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে বলে অভিযোগ করে। পরে ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার যাতায়াত সীমিত করে দিতে বলি এবং তার থেকে একটা মুচলেকা নেওয়া হয়।’
অভিযোগের বিষয়ে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্তসাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’