Tuesday 03 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাংলাদেশ একটি জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সরকার গঠন হতে যাচ্ছে: আলী রিয়াজ

রাবি করেসপন্ডেন্ট
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:২৬

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ।

রাবি: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে একটি জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সরকার গঠন হতে যাচ্ছে, সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘গণভোট-২০২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

আলী রিয়াজ বলেন, ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ ৯ মাস আলোচনা করার পরেও গণভোট প্রয়োজন কেন? কারণ সবাই রাজনৈতিক দল না, এর বাহিরেও অনেক মানুষ রয়েছে। এই সুযোগ এত হেলায় কাটানো যাবে না, অনেক সংগ্রামের পর আমরা এই জায়গায় এসেছি। এবার সুযোগ এসেছে বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক, জবাবদিহি মূলক দেশ গড়ে তোলার।’

বিজ্ঞাপন

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আগামী ৭ দিনে কী করা দরকার, আমি আজকে এটাই বলবো। উত্তরবঙ্গে ১০টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেখানে দেড় লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এই দেড় লাখ শিক্ষার্থী যদি ৫ জন করেও গ্রামাঞ্চলের মানুষকে গণভোট সম্পর্কে জানায় তাহলে এটি খুব একটা দুরূহ কাজ নয়। যারা বলছেন এসি রুমে বসে গণভোট নিয়ে কী করা যাবে তাদের সাথে আমি একমত। আপনারাও উদ্যোগ নেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ হতে উদ্যোগ নেন, জনগণকে বোঝান যে গণভোটের পক্ষে যেন থাকে।

তিনি আরও বলেন, গণভোট নিয়ে ১৩ নভেম্বর আদেশ জারি করে খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রচার শুরু করি। আজকে এখানে যারা উপস্থিত আছেন, সবার উদ্দেশ্যে বলি, গণভোটকে শুধু অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব বলে মনে করবেন না। বাংলাদেশের মানুষ কী পরিমাণ অন্যায় অত্যাচার সহ্য করেছে, তা আমরা জানি। গত ১৫ বছর সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তার সবচেয়ে বড় কারণ শেখ হাসিনা চায়নি আপনি-আমি ভোট দেই। এ কারণেই জুলাই জাতীয় সনদে বলা হয়েছে, পরবর্তী কোনো নির্বাচন করা হলে ক্ষমতাসীন সরকার ও দুই বিরোধী সরকার একত্র হয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন ব্যবস্থা করতে হবে।

অধ্যাপক রিয়াজ আরও বলেন, ‘আজকের এই দিনে এসেও পিএসসি স্বাধীন না। হালের গরু বিক্রি করে একজন বাবা কষ্ট করে তার সন্তানকে পড়াশোনা করায় কিন্তু পিশাচ ছাত্রলীগের কারণে তার সরকারি চাকরির মুখ আর দেখা হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশনকে বিরোধী সরকার দমন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। যেটা করার দরকার, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে দীর্ঘ ৯ মাস সময় নিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে, বাকিটা আপনারা জনগণের ইচ্ছায় আগামীর সরকার হবে। সংবিধানটাকে ছেলেখেলা বানানো হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবর্তন হতে চায়, এর সবচেয়ে দারুণ উদাহরণ হলো তরুণরা জুলাইতে মাঠে নেমে এসেছে। যদি আমি আপনি এই জুলাই শহিদদের কোনো দায় অনুভব করি তাহলে গণভোট নিয়ে সবাইকে জানান।

এসময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘আমি ভোট দিতে যাব মূলত গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার জন্য। আমাদের হাজারো সন্তানের যে রক্তের বিনিময়ে আজকের এই নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ আমাদের সামনে এনে দিয়েছে। তাদের কথা স্মরণ করে আমরা যতটুকু করতে পারি, তার মধ্যে একটি হলো গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়া। আমরা যদি ২৪ এর জুলাই আগস্ট এর কথা স্মরণ করি, তাহলে এটাকে সামনে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটাই হচ্ছে এই গণভোটের প্রস্তুতি। গণভোটের কোনো মার্কা নেই। আমার নিজের মনের ভেতর গভীরে একটা গণভোটের মার্কা আছে। সেই মার্কা হলো লাল, যা আমাদের সন্তানদের রক্তের চিহ্ন। কাজেই হ্যাঁ ভোট মানেই হলো আমাদের সন্তানদের রক্তের ঋণশোধ শোধ করা।

তিনি আরও বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে আমরা প্রবল উত্তেজনা দেখতে পাই, এই রাষ্ট্রে কিছু কিছু মানুষ বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে চায়। এতে কোনো সন্দেহ নাই, বহু আলামত রয়েছে। আমরা ভুলে যাই যে বাংলাদেশের একটি বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। অনেকের প্রবল চেষ্টা থাকতে পারে যে আগের তরিকায় রাষ্ট্র পরিচালনা করার। কিন্তু আমি লিখে দিতে পারি যে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।

উপাচার্য আরও বলেন, আগের পথ অবলম্বন করে এই রাষ্ট্র আর কেউ চালাতে পারবে না। তরুণ সমাজ এবং বাংলাদেশের আপামর মানুষের যে বড় ধরনের দুর্বলতা ছিল সেটা ভেঙে গেছে। এরা এখন আর কোনো কিছু ভয় পায় না। যারা ভয় পায় না, তাদেরকে এই আতঙ্কজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে অনুশাসন করবেন এটা দুঃস্বপ্ন ছাড়া কিছু না। এই দুঃস্বপ্ন যদি কোনো রাজনৈতিক দলের ভিতরে থাকে, তাহলে এটা তাদের ত্যাগ করতে হবে। ২৪ এর জুলাই-আগস্ট এর বিপ্লবের পর যে পরিবর্তন হয়েছে সেটা হলো আগের প্রেক্ষাপট পালটে গেছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর