ঢাবি: প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, আপনাদের সামনে যে কাগজের বই জুলাই জাতীয় সনদ হিসেবে মুদ্রিত অবস্থায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে সেগুলো কালো কালিতে ছাপা। কিন্তু এর প্রত্যেকটা অক্ষর এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে লেখা হয়েছে।
মঙ্গলবার(৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণভোট নিয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণ সংক্রান্ত’ মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি হতে চাননি, তারা চেয়েছিলেন একটি মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র। সেই ঋণের স্বীকৃতিই হলো ‘জুলাই জাতীয় সনদ’।
তিনি বলেন, আমাদের কি কোন দায় নেই? আজকে যে আমরা এখানে কথা বলতে পারছি তার ঋণ স্বীকার করব না? সেই ঋণেরই স্বীকৃতি হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। এটি রাজনৈতিক দলগুলো, সিভিল সোসাইটি, বিভিন্ন রকম সংগঠন, গোষ্ঠী, ব্যক্তি-সকলের সঙ্গে আলোচনা করে তৈরি হয়েছে। আমি যখন জুলাই জাতীয় সনদের বইটা খুলি- আমি সন্তান হারা মায়ের আর্তনাদ শুনতে পাই।
তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। ভবিষ্যতে আর কোন ‘এক ব্যক্তির শাসন’ বাংলাদেশে ফিরে আসতে না পেরে-সেই ব্যবস্থা জুলাই সনদে আছছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সকলেই জানেন তিনটি কথিত নির্বাচনের নামে বাংলাদেশে যে তামাশা হয়েছে সেই তামাশা হয়েছে এক ব্যক্তির ইচ্ছায়। সেটা সম্ভব হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার মধ্য দিয়ে।’
আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে জরুরি অবস্থায় রাষ্ট্রকে ‘রাইট টু লাইফ’ ভায়োলেট করার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে এই জায়গায় উপনীত হয়েছে যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারি করতে হয় তাহলে অভ্যন্তরীণ গোলযোগ বলে যে শব্দটা আছে, যেই অজুহাতে নাগরিকদের অধিকার বিরোধী দলের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়-তা রাখা যাবে না। জরুরি অবস্থা জারি করতে হলে যে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে সেই বৈঠকে হতে হবে ক্যাবিনেটের বৈঠক। শুধু তাই নয় প্রধান বিরোধী দল এবং তার নেতা বা নেত্রী থাকবেন তিনি অথবা তার একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে হবে।
এছাড়া, অনুষ্ঠানে তিনি সকলকে জুলাই সনদের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান। এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এস এম এ ফায়েজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, জুলাইয়ে আহতরাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা।