Wednesday 04 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

১৪ বছরেও সন্ধান মেলেনি ওয়ালিউল্লাহ-মুকাদ্দাসের, ইবি-তে মানববন্ধন

ইবি করেসপন্ডেন্ট
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৯ | আপডেট: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:২৪

১৪ বছর আগের শিক্ষার্থী গুমের ঘটনায় ইবিতে মানববন্ধন।

ইবি: চৌদ্দ বছর আগে ২০১২ সালে ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সাভার থেকে গুম হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ‘দা’ওয়া অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ’ বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ এবং ‘আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ’ বিভাগের আল-মুকাদ্দাসের সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক প্রাঙ্গণে সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের অর্ধ-শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ওলি ভাই ফিরবে কবে, গুম কমিশন জবাব দে’, ‘মুকাদ্দাস ভাই ফিরবে কবে, ইন্টেরিম জবাব চাই’, ‘অলি ভাই ফিরবে কবে, ইন্টেরিম জবাব চাই’, ‘আমার ভাইকে ফেরত দাও, দিতে হবে দিয়ে দাও’, ‘ইবিয়ানকে দিয়ে দাও, দিতে হবে দিয়ে দাও’, ‘আমার ভাইয়ের সন্ধান চাই, ইন্টেরিম জবাব চাই’, ‘মায়ের বুক খালি কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘আমার ভাই গুম কেন, জবাব চাই জবাব চাই’সহ নানা স্লোগান দেয়।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ‘২০১২ সালে ঢাকার সাভার এলাকা থেকে ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাস ভাই গুম হয়েছিল। ৫ই আগস্টের পরে ভেবেছিলাম যে আমাদের ভাইয়েরা হয়ত আমাদের কাছে ফিরে আসবে, কিন্তু সেই অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়নি। গত ১৭ বছরে আমাদের ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাস ভাইসহ যতজন গুম হয়েছিল, সেগুলোর বিচার নিশ্চিত করুন। আর যদি সেই গুম-খুনগুলোর বিচার না হয়, তাহলে গুম-খুনের সংস্কৃতি বাংলাদেশে আবারও চালু হতে পারে। তাই গুম-খুনের এই সংস্কৃতি বন্ধ করার জন্য এর বিচার হওয়া প্রয়োজন। তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্তাকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আমাদের ভাইদের সন্ধান পাওয়া সম্ভব। আমরা বর্তমান প্রশাসনকে বলে দিতে চাই, আপনারা যদি আমাদের ভাইদের সন্ধান দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে আমরা সকল শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবো।’

এদিকে ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি’র মানববন্ধনের প্রেক্ষিতে গত বছরের ৬ জানুয়ারি নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীকে অনুসন্ধানে তিন সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে পহেলা আগস্ট এই কমিটি পুনর্গঠন করে ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান শেখকে আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও এখনো কোনো প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।

কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান শেখ বলেন, ‘আমি মোটামুটি কাজ শুরু করে দিয়েছিলাম। তবে কমিটির সদস্য সচিবের অসহযোগিতার কারণে বেশিদূর এগোতে পারিনি। পরে আমি ভিসিকে বলে এটা থেকে সরে এসেছি।’

সদস্য সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আমরা একটা মিটিং করেছিলাম। সেখানে একজন সদস্য অপারগতা প্রকাশ করেছিল। পরে আমাদের কমিটির আহ্বায়ক এটা থেকে সরে গেছে। সব মিলে আমাদের সবার ব্যস্ততার কারণে আর এটা নিয়ে কাজ করা হয়নি।’

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ঢাকা-কুষ্টিয়াগামী হানিফ এন্টারপ্রাইজের ৩৭৫০ নম্বর গাড়িতে ক্যাম্পাসে যাওয়ার পথে আশুলিয়ার নবীনগর থেকে ওয়ালিউল্লাহ ও মুকাদ্দাসকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করে। এরপর থেকে তাদের ফিরে পেতে ইবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ধর্মঘট ও বহুবার মানববন্ধন করলেও এখনো পর্যন্ত তাদের খোঁজ মেলেনি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর