Monday 16 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বেরোবির রেজিস্ট্রারকে পদ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৩

রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর রশিদ

রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর রশিদকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ইতোমধ্যে তার পরিবহন সুবিধা বাতিল করা হয়েছে এবং প্রশাসনিক কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সঙ্গে এক বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দুর্নীতির অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার ড. হারুন-অর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রোববার একজন শিক্ষক তাকে ফোন করে অফিসে না আসতে নিষেধ করেন এবং ছুটিতে থাকতে বলেন। কিন্তু তিনি অস্বীকৃতি জানান। সকালে অফিসে আসলে তাকে ফোন করে অফিস ছাড়তে বলা হয়। পরে দুপুরে ডেপুটি রেজিস্ট্রার তরিকুল ইসলাম অফিসে এসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তার অফিস থেকে সরে যেতে বলেন। এ ছাড়া, নির্বাচনের আগে ‘জামাতি রেজিস্ট্রার’ অ্যাখ্যা দিয়ে ছাত্রদল তাকে চাকরিচ্যুত করার জন্য প্রেস ব্রিফিংসহ বিভিন্ন চেষ্টা করেছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, পরে দুপুরে গাড়িতে উঠতে গেলে তাকে জানানো হয় যে, গাড়ি দেওয়া যাবে না এবং নিষেধ করা হয়েছে। পরে তিনি রিকশায় করে চলে আসেন। এ ছাড়া, একটি দল তার দফতরে এসে বলে যায় যেন কোনো ফাইল তার কাছে না আসে এবং তার দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও চলে যেতে বলা হয়।

সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি সিন্ডিকেট ডেকে দুয়েকদিনের মধ্যে রেজিস্ট্রারের চুক্তি বাতিল করে নতুন রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেবে। বৈঠকে উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী অন্তত ১০-১২ জন উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মিটিংয়ে ছিলাম। তবে আমাদের যে মিটিং হয়েছে, তা অন্য বিষয়ে। রেজিস্ট্রারের বিষয়ে কোনো মিটিং হয়নি। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না বা বলারও এখতিয়ার নেই। আপনি উপাচার্যের কাছে শুনতে পারেন।’

এ বিষয়ে সোমবার সকালে উপাচার্য ড. শওকাত আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) মো. খাইরুল ইসলাম ফোন রিসিভ করেন। তিনি বলেন, ‘উপাচার্য স্যার মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন। কখন শেষ হবে বলা মুশকিল, তবে অনেক সময় লাগবে।’

গত ২৫ জানুয়ারি ছাত্রদল ও শিবির সমর্থিত শিক্ষার্থীরা পালটাপালটি সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। শিবির উপাচার্যকে ‘বিএনপিপন্থী ও চক্রান্তকারী’ বলে অভিহিত করে চাকরিচ্যুতির দাবি তোলে, আর ছাত্রদল উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগ, জামায়াতপন্থী ও গুপ্ত গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ তোলে।

সূত্র আরও জানায়, ড. মো. হারুন-অর রশিদকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এর পরে। তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে ১১৬তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিসেম্বরে আবার পরবর্তী ১ বছরের চুক্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই হিসেব অনুযায়ী এখনো শেষ হয়নি রেজিস্ট্রারের চুক্তির মেয়াদকাল। তবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক ও কর্মকর্তা জাল সনদ ও মিথ্যা অভিজ্ঞতার তথ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে চাকরি করে আসছেন। এই দুর্নীতির কারণে অনেক জনকে বিচারের সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক এবং কর্মকর্তা তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে জানা গেছে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ রেজিস্ট্রারের অব্যাহতিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন, আবার কেউ দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি। কিন্তু জরুরি সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতি ক্যাম্পাসে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, যা বেরোবির সাম্প্রতিক অন্যান্য ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে শিক্ষা কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর