সিলেট: সিলেটে শিক্ষাঙ্গনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারে বাধা দেওয়ায় নগরীর স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোমের এক শিক্ষককে বরখাস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। বরখাস্তকৃত শিক্ষক মো. নিয়াজ উদ্দিন ওই প্রতিষ্ঠানের রিলিজিয়াস স্টাডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ওই প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল লে. ক. (অব.) মুনির আহমেদ কাদেরী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে প্রভাষক রিয়াজকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন—পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) হাফিজ আহমেদ মজুমদার ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করার আর কয়েক ঘন্টা বাকি। এই মুহুর্তে একজন শিক্ষককে বরখাস্ত করে সিলেটের ক্লিন ইমেজ খেতাব পাওয়া নবনির্বাচিত এমপি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না খতিয়ে দেখা দরকার। এরকম একটি সাধারণ বিষয়কে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর কোনো অর্থ নেই বলে সচেতন মহলের অভিমত।
বরখাস্তকৃত শিক্ষকের দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরীকে স্কলার্সহোম স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এনে নির্বাচনি প্রচারের সুযোগ করে দেন প্রিন্সিপাল ও ট্র্যাস্টি বোর্ডের কয়েকজন সদস্য। এ নিয়ে সিলেটে তোলপাড় হয়।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি নির্বাচনি আচরণবিধি ও রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী হওয়ায় তিনি এর প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে সেই ঘটনার জের ধরেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষেয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুদ রানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রভাষক নিয়াজ উদ্দিন আমাদের কাছে মৌখিক অভিযোগ নিয়ে আসলে আমরা লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, এ বিষয়ে জানার জন্য প্রিন্সিপাল কাদেরির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।
প্রভাষক নিয়াজ উদ্দিন ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি থেকে স্কলার্সহোমের শাহী ইদগাহ শাখায় শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ভারতের সার্ক ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তিনি হিউম্যান রাইটস-এর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করেন নয়া দিল্লীতে। এ ছাড়া আটটি দেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন যুব কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন।