জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) লোক প্রশাসন বিভাগের ১২তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম নয়নের ওপর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগীর ছোটভাই মো. রিদয় মোল্লা বাদী হয়ে সুজানগর থানায় এজাহার দায়ের করেন। তিনি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের হেমরাজপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম নয়ন বিএনপির নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেন। এ কারণে আগে থেকেই অভিযুক্তরা তাকে প্রচারে অংশ না নিতে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগে বলা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে হেমরাজপুর উত্তরপাড়ায় এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের বাড়ির সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে নয়নের গতিরোধ করে। এ সময় তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। প্রতিবাদ করলে লোহার রড, দা, হাসুয়া, হাতুড়ি ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।
হামলায় নয়নের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় এজাহারে যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৫), মো. সাকিল প্রাং (২৫), মো. আতিয়ার খা (৩০), মো. হামিদুল প্রাং (২৬), মো. ইমন প্রাং (১৮) ও মো. সিয়াম প্রাং (১৯)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে সুজানগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসা ও পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভুগী আমিনুক ইসলাম নয়ন বলেন, আমার ওপর হামলার নির্দেশদাতা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আমিনুল ইসলাম। তার নির্দেশেই সন্ত্রাসীরা আমার ওপর হামলা করে। পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত করে এর সুবিচার নিশ্চিত করবে এই দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুজানগর এসআই আনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘নয়ন ছেলেটি খুব ভদ্র, তাকে অকারণেই মারা হয়েছে। সেক্ষেত্রে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করায় মামলাটি ৩২৬ ও ৩০৭ ধারা অনুযায়ী হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল মামলার ইজাহারে লিখার ত্রুটি থাকায় সেটি আজ সকালে সংশোধন করে দায়ের করা হয়েছে। মামলার রিপোর্ট এখনও হয়নি, আজকে হবে।’