Tuesday 17 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বেরোবিতে র‍্যাগিংয়ের শাস্তি প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫০

বেরোবিতে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা।

রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেইটে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। হাতে ফাঁসির রশি ও কাফনের কাপড় পরে তারা প্রতীকী প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

আন্দোলনকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমি এখন প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেইটে আমার জন্য ফাঁসির দড়ি ও কাফনের কাপড় নিয়ে আন্দোলনে বসেছি। আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা যারা আছেন, তারা আমাকে সাহায্য করুন। আমার সাথে ঘটা প্রশাসনের প্রহসনের জন্য আন্দোলনে বসলাম।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সামান্য ভুলের জন্য শিক্ষার্থীদের কোনো সুযোগ না দিয়ে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি, নম্বর টেম্পারিং, অবৈধ নিয়োগসহ নানা অনিয়মের তদন্ত কমিটি বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা হয়।

বিজ্ঞাপন

তারা আরও বলেন, বিজয়-২৪ হলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিন্ডিকেট সভায় আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি এবং তিনজনকে দুই শিক্ষাবর্ষ (৪ সেমিস্টার) বহিষ্কার করা হয়েছে। পরে অভিযোগকারীরা অভিযোগ প্রত্যাহার করলেও প্রশাসন ‘ছলচাতুরী’ করে শাস্তি কমানোর আশ্বাস দিয়েও তা বহাল রেখেছে।

শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘প্রশাসন কি শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করে? নাকি আমাদের দাস মনে করে? এই ছেলেগুলোকে ভিসির পায়ে ধরে মাফ চাইতে হচ্ছে—এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য লজ্জা।’

গত বছরের ২৩ নভেম্বর রাতে বিজয়-২৪ হলের ছাদে বাংলা বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ১৭তম ব্যাচের কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে ‘ম্যানার শেখানো’র নামে র‍্যাগিং করেন। এতে ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী দ্বীন ইসলাম মারধরের শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে, মোট ১২ জন শিক্ষার্থী সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।

গত ২৬ নভেম্বর, সিন্ডিকেট সভায় আব্দুল্লাহ আল মামুন ও রাফি আহমেদকে দুই শিক্ষাবর্ষের জন্য এবং আজিজুল হাকিমকে এক শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরোক্ষভাবে জড়িত নয়জনকে (মনিরুজ্জামান, গোলাম মোর্শেদ তামি, মেঘনাথ রায়, মাসুদ রানা, সাইদুর রহমান শাকিল, সুজন মিয়া, আকরাম আলি, ফাহিম ইসলাম ও ফরহাদ হোসেন) সতর্ক করা হয় এবং তাদের অভিভাবকদের জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী বলেন, ‘র‍্যাগিং ও যৌন নিপীড়নের বিষয়ে বেরোবি প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কেউ র‍্যাগিংয়ে জড়িত হলে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে।’

শিক্ষার্থীরা অবশ্য দাবি করছেন, প্রশাসনের এই কঠোরতা শুধু তাদের (শিক্ষার্থীদের) ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, নিজেদের (শিক্ষকদের) অনিয়মের ক্ষেত্রে নয়। তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং সকল শিক্ষার্থীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর