Saturday 11 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইবির জিয়া হলে টয়লেট ক্লিনার সংকটে প্রভোস্ট কার্যালয়ে তালা


১১ এপ্রিল ২০২৬ ২১:০৩

ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলে নিয়মিত টয়লেট ক্লিনার না আসায় এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রতিবাদে প্রভোস্ট কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ করেছে শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হলের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা এই প্রতিবাদ জানান।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর থেকে এখন পর্যন্ত হলের টয়লেটগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে না। দুর্গন্ধে হলের করিডোর ও কক্ষগুলোতে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। মশার উপদ্রব এত পরিমাণে বেড়েছে এখানে মানুষ থাকা সম্ভব নয়। পশুর ফার্মের চেয়েও বাজে অবস্থা হলটিতে। বিষয়টি বারবার হল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি। নিরুপায় হয়েই শিক্ষার্থীরা আজ প্রভোস্ট কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীরা বেলা ১১টার দিকে প্রভোস্ট কার্যালয় তালা দেয় শিক্ষার্থীরা। এসময় হলের প্রভোস্টের সাথে আলোচনারত অবস্থায় ছিলেন। পরে বিকেল তিনটার দিকে উপাচার্য এসে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে প্রভোস্ট কার্যালয়ের তালা খুলে দেয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের জাফর ইকবাল বলেন, টয়লেটগুলোর অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা নিয়মিত হলের ফি পরিশোধ করলেও ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা পাচ্ছি না। যতক্ষণ না নিয়মিত পরিষ্কারের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে, ততক্ষণ আমাদের এই কর্মসূচি চলবে।
এছাড়া দীর্ঘদিন যাবত অসংখ্য অনাবাসিক শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করছে। দীর্ঘদিন হলে বরাদ্দ দিয়ে আবাসিক করা হচ্ছে না। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের দ্বারা কোনো সমস্যা হলে এই দায়ভার কে নিবে?

এ বিষয়ে হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড.আব্দুল গফুর গাজী বলেন, এর আগে প্রশাসন থেকে আমাদের হলে এবং বেগম খালেদা জিয়া হলে ক্লিনারের বেতন বাবদ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হতো। কিন্তু এটি বেশ কয়েকমাস যাবত প্রশাসন বন্ধ করে দেয়। আমি ওই মিটিংয়ে ছিলাম না। যার ফলে আমাদের হলের ক্লিনার বিকাশ নামের ছেলেটা আর হলে আসে না। আমরা হল ফান্ড থেকে তাকে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা দিতে চেয়েছি। যেখানে অন্যান্য হলে মাত্র ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তবে তাতেও সে রাজি হয়নি। যার ফলে একটি সংকট দেখা গেছে। আমরা প্রশাসনকে অবগত করেছি, তার ফাইলটি অনুমোদন হলে বা সেটি না হলে বিকল্প উপায়ে হলে ক্লিনার নিয়ে এসে পরিষ্কার করার আশ্বাস দেন প্রভোস্ট।

এদিকে কেন তার বেতন বন্ধ বা ফাইল আটকে আছে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হলগুলোতে দীর্ঘদিন যাবত ভর্তুকি বন্ধ ছিল। তবে আমরা একটা এগ্রিমেন্টে এসেছিলাম ভর্তুকি চালু করব তবে এই বেতনগুলো অন্যান্য হলের মতোই হল কর্তৃপক্ষ বহন করবে। যার ফলে জিয়া হলে এই সমস্যাটা দেখা দেয়। আমরা খুব দ্রুতই সমাধানের চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আমরা আগামী মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের সাথে বসব। সেখানে হলের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে সকল সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর