Wednesday 28 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত, ৩ প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হলো আরও সময়

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৪ | আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০৫

ঢাকা: অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত ব্যাংকবহির্ভূত ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়ন বা লিকুইডেশনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে তিন প্রতিষ্ঠানকে আরও তিন মাসের সময় দিয়ে বাকি ৬ প্রতিষ্ঠানকে অবসায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মঙ্গলবার(২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিন মাস সময় বেশি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

বিজ্ঞাপন

প্রথম ধাপে বন্ধ হতে যাওয়া ৬ টি প্রতিষ্ঠান হলো- ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলো অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয় দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে অবসায়ন প্রক্রিয়ার আগে গত সপ্তাহে এসব প্রতিষ্ঠানের শুনানি নেওয়া হয়, যা রোববার শেষ হয়েছে। শুনানিতে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করে। সেগুলো পর্যালোচনা করে তিন প্রতিষ্ঠানকে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক, যা বোর্ড অনুমোদন করেছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত সরকারের আমলে ব্যাপক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ভেঙে পড়ে। পিকে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, অবসায়নের পথে থাকা ৯টি রুগ্ণ এনবিএফআইয়ের ব্যক্তি আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারিতে তাদের মূল টাকা ফেরত পাবেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পদ মূল্যায়ন শুরু হবে। মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে শেয়ারহোল্ডাররা কোনো অর্থ পাবেন কি না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে সরকার মৌখিকভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। তবে আমানতকারীরা কেবল তাদের মূল অর্থ ফেরত পাবেন, কোনো সুদ দেওয়া হবে না।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর