ঢাকা: ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের ভয়াবহ সংকট মোকাবিলায় একগুচ্ছ কঠোর সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের আদালত বা ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা, নাম ও ছবি প্রকাশ এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠানো এক বিস্তারিত প্রস্তাবনায় এসব দাবি জানানো হয়। এবিবি চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন সই করা চিঠিতে খেলাপি ঋণ কমানো এবং নগদ আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যে পাঁচটি খাতে মোট কয়েক ডজন সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।
গত বছরের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে এই প্রস্তাবনা দেওয়া হয়।
এবিবি বলছে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিদ্যমান আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোতে জরুরি সংস্কার প্রয়োজন।
খেলাপি ঋণ হ্রাসে এবিবির প্রস্তাবগুলো হলো—
- আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে খেলাপি ঋণ আংশিক অবলোপনের সুযোগ;
- লিয়েন করা শেয়ার নগদায়নে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা;
- মৃত্যু, দুর্যোগ বা মরণব্যাধিতে ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যক্তিগত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক ঋণের সুদ মওকুফে শর্ত শিথিল।
নগদ আদায় বাড়াতে এবিবি তিনটি কড়া প্রস্তাব দিয়েছে—
- আদালত বা ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া খেলাপিদের বিদেশযাত্রা নিষিদ্ধ;
- খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নাম ও ছবি প্রকাশের অনুমোদন;
- খেলাপিদের যেকোনো ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা।
বন্ধকী সম্পদ দ্রুত বিক্রির জন্য নিলামে বিক্রিত সম্পত্তির ওপর আয়কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার, নিলাম ক্রেতাদের কর রেয়াত, জেলা প্রশাসকের অনুমোদন বাতিল এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এবিবি অর্থঋণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উচ্চ আদালতের স্টে-অর্ডারে কিস্তিতে অর্থ পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা, সিআইবি রিপোর্টে স্টে-অর্ডারের সুযোগ বাতিল, খেলাপিদের সম্পদ ও পাসপোর্টসহ বিভিন্ন তথ্য আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়া পাওয়ার ব্যবস্থা এবং খেলাপি বেশি এমন জেলায় আলাদা অর্থঋণ আদালত স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে।
ব্যাংক খাত সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের ব্যাংকগুলো বিতরণ করা মোট ঋণের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি খেলাপি। মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকা। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতের মোট ঋণ বিতরণ ছিল ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা, যার ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশই খেলাপি।
ব্যাংকাররা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় খেলাপি ঋণ কম দেখানোর প্রবণতা থাকলেও এখন প্রকৃত চিত্র সামনে আসছে। সামনে খেলাপি ঋণের হার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।