ঢাকা: গৃহ ঋণ পুনঃতফসিলিকরণে গ্রাহকদের পরিশোধ সক্ষমতা বজায় রাখা এবং কিস্তি নিয়মিত আদায়ে উৎসাহিত করতে নতুন ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৯(১)(চ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিআরপিডি সার্কুলার নম্বর-১৬, তারিখ ১৮ জুলাই ২০২২ অনুযায়ী ১০০ কোটি টাকার চেয়ে কম মেয়াদি ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পরিশোধ মেয়াদ ৬ বছর নির্ধারিত থাকায় গৃহ ঋণের ক্ষেত্রে বাস্তব সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছিল। বিশেষ করে অনেক ক্ষেত্রে পুনঃতফসিল পরবর্তী পরিশোধ মেয়াদ ঋণের বিদ্যমান অবশিষ্ট মেয়াদের চেয়েও কম হয়ে যাচ্ছিল।
এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গৃহ ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের ক্ষেত্রে বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রাহকের নগদ প্রবাহের প্রক্ষেপণ বিবেচনায় সর্বোচ্চ ৬ মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ পুনঃতফসিল পরবর্তী পরিশোধের মেয়াদ নির্ধারণ করা যাবে। প্রথম ও দ্বিতীয়বার পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে পরিশোধ মেয়াদ হবে ঋণের বিদ্যমান অবশিষ্ট মেয়াদের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। তৃতীয় ও চতুর্থবার পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে এ মেয়াদ হবে বিদ্যমান অবশিষ্ট মেয়াদের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত। তবে কোনো অবস্থাতেই পুনঃতফসিলের মাধ্যমে নির্ধারিত পরিশোধ মেয়াদ মূল ঋণ মঞ্জুরির সময় নির্ধারিত মেয়াদের চেয়ে বেশি হতে পারবে না।
এ ছাড়া, ঋণ পুনঃতফসিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় গ্রাহকের বয়সসীমা কঠোরভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সর্বশেষ কিস্তি পরিশোধের তারিখ কোনোভাবেই গ্রাহকের ৬৫ বছর বয়স অতিক্রম করতে পারবে না।
অন্যদিকে, কোনো ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি থেকে পুনঃতফসিলকৃত গৃহ ঋণ অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী পুনঃতফসিলের ক্রম প্রযোজ্য হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের নিকট থেকে সংশ্লিষ্ট ঘোষণাপত্র সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, গৃহ ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের আগে মূল ঋণ মঞ্জুরিসংক্রান্ত সব ধরনের ডকুমেন্টেশন ও প্রযোজ্য শর্ত যথাযথভাবে পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, ডাউন পেমেন্ট নির্ধারণসহ অন্যান্য সব বিষয়ে বিআরপিডি সার্কুলার নম্বর-১৬/২০২২ এবং পরবর্তী সময়ে জারিকৃত সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে গৃহ ঋণগ্রহীতাদের জন্য পুনঃতফসিল প্রক্রিয়া আরও বাস্তবসম্মত ও গ্রাহকবান্ধব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।