ঢাকা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের প্রভাবিত করতে অবৈধ অর্থের লেনদেন ঠেকাতে মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে এজেন্ট নম্বর থেকে টাকা পাঠানো ও ক্যাশ আউট বন্ধ থাকায় নগদ অর্থ তুলতে ব্যাংকের এটিএম বুথে ভিড় করছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এটিএম বুথের সামনে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় মানুষকে। বিশেষ করে ডাচ-বাংলা ব্যাংকসহ সকল এটিএম বুথগুলোতে তুলনামূলক বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
মানিকনগর ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাত ১০টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন গ্রাহক টাকা তোলার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।
বেসরকারি চাকরিজীবী পিয়াস আলী বলেন, ‘মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট থেকে টাকা তুলতে পারছি না, বাধ্য হয়ে বুথে আসতে হয়েছে। জরুরি কিছু টাকার দরকার আমার। বিকাশ এজেন্টে গিয়ে জানতে পারি, এখন এজেন্ট নম্বর থেকে টাকা পাঠানো ও ক্যাশ আউট করতে পারব মাত্র ১০০০ টাকা। কিন্তু আমার এর বেশি প্রয়োজন।’
মতিঝিল ও গোপীবাগ এলাকাতেও একই ব্যাংকের ছয়টি এটিএম বুথে টাকা তোলার জন্য মানুষের ভিড় দেখা গেছে। অনেক গ্রাহককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে জানান তারা।
আজ সকালে গোপীবাগের একটি বুথে অপেক্ষমান ব্যবসায়ী তারেক মিয়া বলেন, ‘দৈনিক লেনদেনের জন্য পুরোপুরি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ওপর নির্ভর করি। হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্তে আমার মতো ছোট ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছে। এটিএমে ভিড় থাকায় সময়মতো প্রয়োজনীয় নগদ টাকা পাওয়া যাচ্ছে না।’
আরেক গ্রাহক সাকিল ইসলাম জানান, বেতন পাওয়ার পর বাসাভাড়া ও সংসারের খরচের টাকা তুলতে এসে দীর্ঘ লাইনে পড়তে হয়েছে। তার মতে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে হঠাৎ কড়াকড়ি আরোপের কারণেই এটিএম বুথে এমন চাপ তৈরি হয়েছে।
একটি বুথের নিরাপত্তাকর্মী জানান, সোমবার বিকেল থেকেই বুথগুলোতে গ্রাহকদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। তবে এখন পর্যন্ত বুথে নগদ টাকার কোনো সংকট দেখা দেয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা এমএফএস ও পিপিআই (প্রিপেইড ইনস্ট্রুমেন্ট) লেনদেনে বিশেষ সীমা কার্যকর থাকবে।
এই সময় বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ সব এমএফএস প্ল্যাটফর্মে একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে। দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করা যাবে, যার মোট সীমা থাকবে ১০ হাজার টাকা।
তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী লেনদেন চালু থাকবে। এ সময় এমএফএসের মাধ্যমে অন্য সব ধরনের লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
নির্বাচন উপলক্ষ্যে এমএফএস-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রতিটি এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স সেল’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে সব ধরনের লেনদেনের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি (ক্লোজ মনিটরিং) চালানো হবে। সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এ সময় পি-টু-পি ইন্টারনেট ব্যাংকিং (আইবিএফটির মাধ্যমে লেনদেন) কার্যক্রমও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানায়, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী এমএফএস ও ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলে স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে।
উল্লেখ্য, স্বাভাবিক সময়ে এমএফএস গ্রাহকেরা এজেন্টের মাধ্যমে দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পাঠাতে এবং ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারেন। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা লেনদেনের সুযোগ থাকে।