Monday 23 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ব্যাংকিং সংকট-বিনিয়োগ মন্দা কাটাতে ডিসিসিআই’র ‘রোড টু রিভাইভাল’ প্রস্তাব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:২৭ | আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৫৭

ডি‌সি‌সিআইয়ের সংবাদ সম্মেলন।

ঢাকা: বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে ব্যাংকিং খাত সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ পুনরুজ্জীবন এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে সরকারের প্রতি জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ‘রোড টু রিভাইভাল’ প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডি‌সিসিআই)।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ডি‌সি‌সিআই অডিটো‌রিয়া‌মে এক সংবাদ স‌ম্মেল‌নে এসব দা‌বি ক‌রেন ডি‌সি‌সিআই নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২২ বছরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সর্বনিম্নে নেমে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমেছে। রফতানি খাতেও চাপ স্পষ্ট—গত ডিসেম্বর মাসে রফতানি প্রবৃদ্ধি কমে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়ায়।

বিজ্ঞাপন

ডি‌সিসিআইয়ের মতে, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিই এ মন্দার প্রধান কারণ।

ডি‌সিসিআই নেতারা জানায়, দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখন প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা। শ্বেতপত্র প্রণয়নের সময় দেখা গেছে, গুটিকয়েক প্রভাবশালী গোষ্ঠী হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে। এ ছাড়া ঋণ শ্রেণিবিন্যাস বিধিতে কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৩ মাস করায় ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

ডি‌সিসিআই জোর দিয়ে বলেছে, সব ব্যবসায়ী নয়, প্রকৃত বড় খেলাপিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সচল ব্যবসার জন্য সময় ও নীতিগত সহায়তা দরকার।

তারা আরও ব‌লেন, ডলারের বিপরীতে গত দুই বছরে টাকার মান প্রায় ৪১ শতাংশ কমেছে এবং ঋণের সুদহার ১৬ শতাংশের বেশি হওয়ায় বহু এসএমই উদ্যোক্তা খেলাপির ঝুঁকিতে পড়ছেন। দেশে প্রায় ৭৮ লাখ এসএমই প্রতিষ্ঠানের কর্মসংস্থান ও উৎপাদন মূলত ব্যাংকের ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের ওপর নির্ভরশীল; এ কারণে এসএমইবান্ধব নীতির ওপর বিশেষ জোর দেয় ডি‌সিসিআই।

ডি‌সিসিআই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ‘রোড টু রিভাইভাল’ উদ্যোগের আওতায় কয়েকটি তাৎক্ষণিক ও কাঠামোগত প্রস্তাব দেয়—

আর্থিক খাত

  • কেবল পলিসি রেট বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়
  • ব্যবসার স্বার্থে পলিসি রেট কমানো ও বিশেষ ভর্তুকিযুক্ত ঋণ (Subsidized Credit Line) চালু
  • এসএমই ও উৎপাদনমুখী খাতে সহজ শর্তে অর্থায়ন

জ্বালানি নিরাপত্তা

  • দৈনিক গ্যাস ঘাটতি প্রায় ৩০ শতাংশ
  • নতুন শিল্পে গ্যাসের দাম ৪০–৪২ টাকা হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে
  • বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৭ হাজার মেগাওয়াট হলেও ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ১৬.৫ হাজার মেগাওয়াট, ফলে বাড়ছে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট
  • প্রস্তাব: বিইআরসি শক্তিশালী করা, জিসিসি দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চুক্তি, ১৯৯৬ সালের জ্বালানি নীতি যুগোপযোগী করা

ডি‌সিসিআই অভিযোগ করে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও চাঁদাবাজি কমেনি; বরং কোথাও কোথাও ২০-৫০ শতাংশ বেড়েছে। শিল্প উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

গত ১৮ মাসে উল্লেখযোগ্য আইপিও না আসায় পুঁজিবাজার স্থবির। ডি‌সিসিআই প্রস্তাব দিয়েছে—

  • কাফকো, বিপিডিবি, ওয়াসা, পেট্রোবাংলাসহ বড় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান
  • বড় বহুজাতিক ও দেশীয় কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে ‘গ্রিন চ্যানেল’ তৈরি

এনবিআর সংস্কার ও কর ব্যবস্থা

  • কর-জিডিপি অনুপাত নেমে ৬.৫৬ শতাংশে
  • এনবিআরকে পূর্ণ অটোমেশন, এআই ও ডাটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার
  • নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আদায় কার্যক্রম পৃথকীকরণ
  • টার্নওভার ট্যাক্স ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৬ শতাংশে ফেরানোর দাবি

লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির ১৫–২০ শতাংশ, যেখানে অন্য দেশে ৮-১০ শতাংশ। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বড় প্রকল্পে ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি।

চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ ৪১ শতাংশ বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।

দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র দশমিক ৪৮ শতাংশ কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ডি‌সিসিআই প্রস্তাব দেয়—

  • প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
  • দক্ষতা বাড়িয়ে বিদেশে হোয়াইট কলার জব নিশ্চিত করা।

ডি‌সিসিআই জানায়, সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। তাই তারা আগামী ১০০-১৮০ দিনের স্বল্পমেয়াদি কৌশল সরকারের কাছে তুলে ধরবে। নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বে কাজ করে টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারই তাদের মূল লক্ষ্য।

সারাবাংলা/এসএ/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর