ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলরে জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গভর্নরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় গভর্নরের ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলে একাধিক দাবি নামা উত্থাপন করা হয়।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বরে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় কাউন্সিলের নেতারা বলেন, বর্তমান গভর্নর দায়িত্ব গ্রহণের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন জোরদার ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি হলেও বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। বরং নির্বাহী পরিচালক ও পরিচালকের পদ সংখ্যা হ্রাসের উদ্যোগ, রিস্ট্রাকচারিং প্রক্রিয়া এবং প্রমোশনাল পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং সার্ভিসকে দুর্বল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন সক্রিয় সংগঠনের সঙ্গে এক বৈঠকে সর্বদলীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়। তবে একাধিক বৈঠক ও আলোচনা সত্ত্বেও নিয়োগ–পদোন্নতির অচলাবস্থা ও অন্যান্য ইস্যুতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন নেতারা।
সভায় বলা হয়, গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরদের সমন্বয়ে গঠিত সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম (এসএমটি) এবং নির্বাহী পরিচালকগণের সমন্বয়ে গঠিত এক্সিকিউটিভ ম্যানেজমেন্ট টিম (ইএমটি) কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অভিজ্ঞ কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের মতামত উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে ব্যাংক পরিচালিত হচ্ছে— এমন অভিযোগ তোলা হয়।
কাউন্সিলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও একজন পরিচালককে বিধিবহির্ভূতভাবে বহিঃকেন্দ্রে বদলির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়। ব্যাখ্যা প্রদানের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বদলি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। প্রায় তিন হাজার প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের নির্বাচিত নেতাদের এভাবে বদলি করাকে ‘ন্যাক্কারজনক’ বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।
সভায় গভর্নরের বিরুদ্ধে ১৫টি প্রধান অভিযোগ তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে রয়েছে—
- নির্বাহী পরিচালক ও পরিচালকের পদ সংখ্যা হ্রাস,
- রিস্ট্রাকচারিং উদ্যোগ,
- প্রমোশনাল পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ,
- নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অচলাবস্থা,
- যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়াই উপদেষ্টা–পরামর্শক নিয়োগ,
- কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধা পুনর্বহাল না করা,
- ৫ম গ্রেড কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ। সুবিধা চালু না করা,
- সিনিয়র-জুনিয়র বেতন বৈষম্য নিরসন না করা,
- দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে হয়রানির শিকারদের সুরক্ষা না দেওয়া,
- লকারে গচ্ছিত সামগ্রী ফ্রিজ করে রাখা,
- নীতি–স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া,
- গণমাধ্যমে অসংগত বক্তব্য প্রদান,
- এক্সিকিউটিভ ফ্লোরে তালা দিয়ে চলাচল সীমিত করা,
- গভর্নর ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ,
- প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি ‘উচ্চপর্যায়ের শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি’ গঠনের দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া বিরাজমান পরিস্থিতিতে জরুরি বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পরিস্থিতি দেশের আর্থিক খাতে কী প্রভাব ফেলবে সেই প্রশ্ন এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।