ঢাকা: শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কর্মকর্তাদের শোকজ ও বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ, আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
গভর্নর বলেন, পাঁচটি ব্যাংকের মার্জার কোনো স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের বিষয় নয়; এটি সরকারের একটি নীতিগত ও রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত।
গভর্নর অভিযোগ করে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা মার্জার ও তারল্য সহায়তার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে প্রশ্ন তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়েছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের প্রথমে শোকজ করা হয় এবং পরে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সাময়িকভাবে ঢাকা থেকে বাইরে বদলি করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষায় সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। চাকরি করতে হলে নিয়ম মেনেই করতে হবে—কোনো গোষ্ঠীর ইশারায় কাজ করা চলবে না।’
গভর্নর বলেন, ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষুদ্র সংখ্যক কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে আর্থিক খাতের সংস্কার প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। তাদের উদ্দেশ্য ব্যাংকগুলোকে ব্যর্থ প্রমাণ করে পূর্বের মালিকদের পুনরায় সুযোগ করে দেওয়া।’
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী কাঠামোয় পুনর্গঠন করা হবে।’
গভর্নর জানান, প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের পাওনা অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে গত দুই বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং ‘ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ফান্ড’ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকাসহ মোট ৩২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে ধ্বংস নয় বরং আর্থিকভাবে পুনর্গঠন করে স্থিতিশীল অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে।