Monday 06 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আওয়ামী লীগের প্রক্সি হিসেবে বিএনপিকে চাই না: রাশেদ প্রধান

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৩৩ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:২৭

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান

ঢাকা: বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, একটি সরকার স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট হওয়ার জন্য যা যা উপাদান প্রয়োজন, বিএনপি তার সবকিছুর প্রমাণ দিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর ভারতীয় আধিপত্যবাদের সামনে মাথা নত করতে চায় না এবং আওয়ামী লীগের বিকল্প বা প্রক্সি হিসেবে তারা বিএনপিকেও দেখতে চায় না।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

বক্তব্যের শুরুতে রাশেদ প্রধান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সংবিধান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যেই মুজিববাদী সংবিধানকে সংশোধন করতে করতে হাসিনাবাদী সংবিধানে পরিণত করা হয়েছে, সেই হাসিনাবাদী সংবিধানকে এখন তারেকবাদী সংবিধানে পরিণত করতে চাইছেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন।

তিনি আরও বলেন, চব্বিশ পরবর্তী বাংলাদেশে যদি সংবিধানের দোহাই দিয়ে আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করার জন্য জুলাই অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করতে বলা হয়, তবে ছাত্র-জনতা তার জন্য প্রস্তুত নয়। তারা জুলাইয়ের শপথ বাস্তবায়নে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি আছেন।

রাশেদ প্রধান তার বক্তব্যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি সামনে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, আমরা ১৯৭১ সালে লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছিলাম এবং নামমাত্র স্বাধীনতা পেয়েছিলাম, কিন্তু প্রকৃত সার্বভৌমত্ব পাইনি। ভারতীয় আধিপত্যবাদ আমাদের গ্রাস করে খেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা তার ‘মাতৃভূমি’ ভারতের দিল্লিতে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশবাসী একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল। যে দেশে প্রকৃত স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র থাকবে। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি ‘ম্যানেজ ভোটের’ মাধ্যমে সেই স্বপ্নকে গুঁড়ো গুঁড়ো করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিএনপির অবস্থান ও দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে রাশেদ প্রধান বলেন, আগে বিএনপির বক্তব্য ছিল যে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে এবং কোনো আইন সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। অথচ এখন তারা ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে।

তিনি আরও বলেন, আদেশ হলো, অধ্যাদেশ হলো, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসাথে হলো—তাতেও মানুষের আপত্তি ছিল না। কিন্তু এখন তারা গণভোট অধ্যাদেশই বাতিল করে দিতে চায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন তারা এখন নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসছে?

জাতীয় সংসদ ও বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে কটাক্ষ করে রাশেদ প্রধান বলেন, সংসদে এখন শিলং থেকে আসা একজন নতুন শিক্ষক এসেছেন। ভারতীয় এজেন্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখন সবাইকে শিক্ষা দেন যে আমরা সবাই ছাত্র।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংসদের চিত্র এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী আর বক্তব্য দিতে ওঠেন না।

সবশেষে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এক জুলাই গেছে, সামনে আরও একটি জুলাই আসতে যাচ্ছে। আবারও একটি অভ্যুত্থান করতে হবে এবং আজাদির বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের আধিপত্যবাদকে আর বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সারাবাংলা/এফএন/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর