ঢাকা: বিশ্ব ক্যানসার দিবস উপলক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যচর্চা জোরদারের লক্ষ্যে ‘আমরা নারী’ ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর যৌথ উদ্যোগে ক্যানসার ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশের গুলশানস্থ প্রধান কার্যালয়ে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে কর্পোরেট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ডা. মো. খাদেমুল বাশার, (সহকারী অধ্যাপক, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস) এবং ডা. বুশরা নূর আল চৌধুরী (সহকারী অধ্যাপক, সার্জারি বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ অ্যান্ড হাসপাতাল)।
অনুষ্ঠানে ডা. খাদেমুল বাশার বলেন, ক্যান্সার এখন আর কেবল চিকিৎসাবিষয়ক সমস্যা নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সচেতন জীবনযাপন ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই ক্যানসার নিরাময় সম্ভব।
ডা. বুশরা নূর আল চৌধুরী বলেন, রক্তরোগ ও ক্যানসারসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত শনাক্ত করা গেলে রোগীর জীবন রক্ষা করা যায়। তাই কোনো লক্ষণকে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা ও নিয়মিত স্ক্রিনিং-ই হতে পারে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা।
কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন- হাসি রানী বেপারী (ইভিপি ও হেড অব সিআরএম) এবং এইচ এম মেহেদী হাসান (এসএভিপি ও ম্যানেজার, লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, কমিউনিটি ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি)।
অনুষ্ঠানে ‘আমরা নারী’-এর প্রতিষ্ঠাতা এম এম জাহিদুর রহমান বিপ্লব বলেন,
‘আমরা নারী’ একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সামাজিক সংগঠন। নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক কল্যাণ এবং মানবিক উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আমরা নারী রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ নারী-পুরুষ উভয়ের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে গবেষণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবাধিকার—এই পাঁচটি মূল ভিত্তিকে সামনে রেখে আমরা একটি সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছি। আজকের আয়োজন সেই ধারাবাহিক উদ্যোগেরই অংশ।
আয়োজকরা জানান, স্বাস্থ্য শিক্ষা, গণমাধ্যম এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হবে।