ঢাকা: স্বাস্থ্য সুরক্ষা, প্রতিরোধভিত্তিক চিকিৎসা বিষয়ে সার্বিক জনসচেতনতা জোরদারের লক্ষ্যে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ক্যানসার সচেতনতা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সামাজিক সংগঠন ‘আমরা নারী’ ও ‘আমরা নারী রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’র উদ্যোগে এবং সিওক হেল্থকেয়ার’র সহযোগিতায় এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনে চীনের মডার্ন ক্যানসার হাসপাতাল যুক্ত ছিল, যা আধুনিক চিকিৎসা জ্ঞান ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখে।
সেমিনারের মূল আকর্ষণ ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ লিন জিং, যিনি তার বক্তব্যে আধুনিক ক্যানসার চিকিৎসার অগ্রগতি, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং সময়োপযোগী রোগ নির্ণয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি এমিলি লি (ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, মডার্ন ক্যানসার হাসপাতাল, গুয়াংজু, চীন) আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ ও সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. এ. এম. সারওয়ারউদ্দিন চৌধুরী (উপাচার্য, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম (প্রো-উপাচার্য, সাস্ট)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন (ট্রেজারার, সাস্ট) এবং অধ্যাপক ড. মো. ফারুক মিয়া (ডিন, লাইফ সায়েন্সেস অনুষদ, সাস্ট)। এছাড়াও সিওক হেল্থকেয়ারের কো-ফাউন্ডার ফারহানা হাসনা তুলি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী এম. এম. জাহিদুর রহমান (বিপ্লব) বলেন, ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা একটি সুস্থ ও সচেতন সমাজ গড়ে তুলতে পারি।
তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সেমিনারের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ চিহ্নিতকরণ, নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের প্রয়োজনীয়তা, আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সম্পর্কে ধারণা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বিশেষভাবে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যচর্চা এবং সচেতনতার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপিত হয়।
এই সেমিনারে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন, যা ক্যানসার সচেতনতা বিস্তারে একটি ইতিবাচক ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।