Sunday 18 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

এমআইএসটিতে দেশের প্রথম রেসপনসিবল এআই সামিট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৪৫

ঢাকা: বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রেসপনসিবল এআই সামিট-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে দেশে দায়িত্বশীল ও নৈতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চর্চায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি পেল।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (এমআইএসটি) এই সামিট অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ এবং এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মোহাম্মদ নাসিম পারভেজ প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহজাহান মজিব।

বিজ্ঞাপন

প্রধান অতিথি শারমীন এস মুরশিদ তার বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিল্পখাতের বিকাশ ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব ও সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করেন।

সামিটে নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির বার্কম্যান ক্লেইন ফেলো ড. উপোল এহসান ‘দেশে তৈরি, আমদানি নয়: বাংলাদেশে দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ শীর্ষক মূল বক্তব্যে বাংলাদেশের বাস্তবতা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমাধান গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সামিটে অ্যাকাডেমিয়া, শিল্পখাত ও নীতিনির্ধারণী দৃষ্টিভঙ্গিতে দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (রেসপনসিবল এআই) নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় শিক্ষাবিদরা কীভাবে প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্বশীল এআই চর্চায় ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উঠে আসে। পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এআই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

এছাড়া, বাংলাদেশে ডিজিটাল সিস্টেমের প্রবর্তনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দায়িত্বশীল এআই ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের গুরুত্ব বক্তারা তুলে ধরেন। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শিল্পখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সামিটে সেশন ও প্যানেল আলোচনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পোস্টার উপস্থাপনা ও প্রজেক্ট প্রদর্শনী প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে বিভিন্ন উদ্ভাবনী ও সামাজিকভাবে প্রাসঙ্গিক এআই প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এতে এমআইএসটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি), ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিসহ (আইইউটি) ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীগণ অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশনে প্রথম চারটি দল এবং পোস্টার প্রদর্শনীতে প্রথম চারটি দলকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

সারাবাংলা/এমএইচ/এসএস