Thursday 29 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শীর্ষ ১০ আইটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান পেল বেসিস অ্যাওয়ার্ড

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৬

ঢাকা: দেশের শীর্ষ ১০টি আইটি ও আইটিইএস সেবা রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানকে অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে তথ্য প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে বেসিস আইটি এক্সপোর্টার্স নাইট শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। আইটি রফতানি খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ২০২৪–২৫ অর্থবছরে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠান এবার পুরস্কার পেয়েছে। অনুষ্ঠানের অতিথিরা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোক্তা ও কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

শীর্ষ ১০ আইটি ও আইটিইএস রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- বিআইজেআইটি, ব্রেইন স্টেশন ২৩, উল্কাসেমি, সেলিস ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মস, সেফালো বাংলাদেশ, স্যামসাং আর অ্যান্ড ডি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ, এনোসিস সলিউশন্স, থেরাপ (বিডি), রেডিয়েন্ট ডাটা সিস্টেমস এবং ডাটা পাথ। এসব প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যার উন্নয়ন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, গবেষণা ও উন্নয়ন, ফিনটেক, হেলথটেক এবং উচ্চমূল্যের আইটি সেবায় বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরছে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বেসিস প্রশাসক আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্। বক্তব্য দেন বেসিস সহায়ক কমিটির সদস্য মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউক এবং বেসিস আইটি এক্সপোটার্স নাইট ২০২৬ এর আহ্বায়ক রওশন কামাল জেমস।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের উপসচিব ড. মো. রাজ্জাকুল ইসলাম, বিশ্বব্যাংকের অপারেশনস ম্যানেজার (বাংলাদেশ ও ভুটান) গেইল মার্টিন এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে দেশের আইটি ও আইটিইএস সেবা খাতের শীর্ষস্থানীয় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিভিন্ন দেশের কুটনৈতিকবৃন্দ, শিল্প নেতৃবৃন্দ ও বেসিস সহায়ক কমিটির সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশের আইটি ও আইটিইএস খাত এখন দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। দক্ষ মানবসম্পদ, উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং সরকারের সময়োপযোগী নীতিগত সহায়তার ফলে এই খাত আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমেই আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে রফতানিমুখী শিল্প হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়ে নানামুখী নীতিগত সহায়তা প্রদান করছে। ক্যাশ ইনসেনটিভ, কর অবকাশ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ সহজীকরণের মাধ্যমে আইটি রফতানি খাতের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হচ্ছে।”

আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান বলেন, “বেসিসের সদস্যরাই বাংলাদেশের আইটি রফতানির মূল চালিকাশক্তি। এটি কেবল একটি উদযাপনমূলক আয়োজন নয়, এটি বাংলাদেশের আইটি রফতানি খাতের অতীত অর্জন পর্যালোচনা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় ও কৌশল নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী প্ল্যাটফর্ম। ক্যাশ ইনসেনটিভ, কর অবকাশ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার এই চারটি মৌলিক স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের আইটি রফতানি খাত আগামী দিনে আরও টেকসই ও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে সরকার, বেসরকারি খাত ও শিল্প সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বেসিসের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে বিশ্বের ১০৪টিরও বেশি দেশে সফটওয়্যার ও আইটি সেবা রফতানি করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৫০০টি বেসিস সদস্য প্রতিষ্ঠান রফতানিতে যুক্ত, যার মধ্যে প্রায় ৩০০টি নিয়মিতভাবে সক্রিয় রফতানিকারক। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, নরওয়ে, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, হংকং, সিঙ্গাপুর ও কানাডা বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ আইটি রফতানি গন্তব্য।

অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণে তথ্যপ্রযুক্তি রফতানির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর