ঢাকা: দেশের তরুণ বিজ্ঞানীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক গবেষণা, উদ্ভাবন ও সম্ভাবনা তুলে ধরার লক্ষে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য তরুণ বিজ্ঞানীরা’ প্রতিপাদ্যে দুই দিনব্যাপী (৪-৫ এপ্রিল) ‘৬ষ্ঠ ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেস’ শুরু হয়েছে। কংগ্রেসে বিভিন্ন সেশন, গবেষণা উপস্থাপনা, প্যানেল আলোচনা এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করছেন। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ বিজ্ঞানীদের মধ্যে গবেষণার আগ্রহ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের উদ্ভাবন সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস- আয়োজিত ‘৬ষ্ঠ ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেস’- এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. জেড এন তাহমিদা বেগম। স্বাগত বক্তব্য দেন ৬ষ্ঠ ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেসের চেয়ারপারসন মেজর জেনারেল (অব.) প্রফেসর ড. এ এস এম মতিউর রহমান। সূচনা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস-এর সেক্রেটারি প্রফেসর ড. ইয়ারুল কবির।
মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন ও মানবকল্যাণের অন্যতম ভিত্তি। সরকার একটি জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে স্টেম শিক্ষার প্রসার, গবেষণাকে বাজারে রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহ আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। গবেষণা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের কাজে লাগানোর জন্যও আহ্বান জানাই।’
সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় দেশে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি জাতীয় এআই ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। ডেটা নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্পখাতে এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সমন্বিত নীতিমালা ও গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্টেম শিক্ষা, ন্যানো ও বায়োটেকনোলজি এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে উন্নয়নে কাজ চলছে। ইনোভেশন টু মার্কেট উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্ভাবনকে বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করতে এবং একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’
প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘আজ আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে অবস্থান করছি, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের জীবন ও কর্মক্ষেত্রকে পরিবর্তন করছে। বাংলাদেশের তরুণ বিজ্ঞানীরাই এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। আমাদের উচিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের বাস্তব সমস্যা স্বাস্থ্য, কৃষি ও উদ্ভাবন সমাধান করা এবং ডেটা নিরাপত্তা ও নৈতিকতা নিশ্চিত করা।