ইউক্রেনে রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলায় ছয়জন নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছে। হামলার সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত এবং কিয়েভের অন্যান্য কূটনৈতিক প্রতিনিধি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শান্তি আলোচনার জন্য যাচ্ছিলেন।
রাশিয়ার আক্রমণে প্রায় ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬০০টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিয়েভ শহরে দুইজন নিহত হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব ডিনিপ্রোপেট্রোভস্ক ও দক্ষিণের খেরসন অঞ্চলে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা ২৯ জন। হামলার ফলে কিয়েভের পশ্চিমাঞ্চলসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান টাইমুর তাকাচেঙ্কো বলেছেন, ‘রাশিয়া পুরো পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করছে। আহতদের মধ্যে অনেকের ওপর রাশিয়ান ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ক্যাটারিনা মাথারনোভা হামলার পর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে রাশিয়া সত্যিকারের শান্তি চুক্তিতে আগ্রহী কি না। তিনি বলেছেন, “যখন বিশ্ব সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, মস্কো কূটনীতি নয়, ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে উত্তর দেয়।”
রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল যুদ্ধের দ্রুত সমাধান এবং মর্যাদাপূর্ণ শান্তি নিশ্চিত করতে জেনেভায় আলোচনায় অংশ নিয়েছে। এই আলোচনার মধ্যে প্রাথমিক ২৮-দফা পরিকল্পনার বেশ কিছু বিতর্কিত বিষয় এখনও সমাধান হয়নি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার রবিবার ফ্লোরিডায় ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা আশা করছেন, আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের সমাধান এবং কিয়েভের জনগণকে রাশিয়ার হামলার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।