Tuesday 06 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মাদুরোর আটকে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতাদের নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৯ | আপডেট: ৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:১৫

হেলিপোর্টে নামছে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে বহনকারী হেলিকপ্টার। ছবি: এএফপি

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে আনার ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সিএনএন এর খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বামঘেঁষা স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র বা বিশ্বকে আরও নিরাপদ করবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে বার্নি বলেন, ‘বরং এটি (ভেনেজুয়েলায় অভিযান) উল্টো ফল দেবে। আন্তর্জাতিক আইনের এই নির্লজ্জ লঙ্ঘন পৃথিবীর যেকোনো দেশকে অন্য কোনো দেশ আক্রমণ করার, সম্পদ দখল করার বা সরকার পরিবর্তন করার সুযোগ করে দেবে।’

বিজ্ঞাপন

স্যান্ডার্স প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ইউক্রেনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আগ্রাসনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘পুতিন ইউক্রেনে তার নৃশংস হামলাকে বৈধ করতে যে ভয়াবহ যুক্তি ব্যবহার করেছিলেন, এটিও ঠিক সেই একই রকম।’

প্রবীণ এই সিনেটর আরও যোগ করেন, ‘আসুন আমরা কোনো ভুল না করি। এটি স্রেফ নির্লজ্জ সাম্রাজ্যবাদ। এটি লাতিন আমেরিকায় মার্কিন হস্তক্ষেপের সেই অন্ধকার দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়, যা এক ভয়াবহ কলঙ্ক রেখে গেছে। গণতান্ত্রিক বিশ্বের উচিত এর নিন্দা জানানো এবং তারা তা করবেও।’

মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সফাইল ছবি: রয়টার্স

মার্কিন বাহিনীর ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে আনার ঘটনাটিকে ‘তেলের জন্য রক্তপাত’ বলে মন্তব্য করেছেন জ্যাক অচিনক্লজ। তিনি ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট দলীয় সদস্য।

শনিবার সিএনএনকে কংগ্রেসম্যান জ্যাক বলেন, ‘তেলের জন্যই এ রক্তপাত। এর সঙ্গে মাদক পাচারের কোনো সম্পর্ক নেই। মাদকের বেশির ভাগই ইউরোপের দেশগুলোয় যায়। আর কোকেন সেই মাদক নয়, যেটি মার্কিনিদের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। বরং সেটা ফেন্টানিল, যা চীন থেকে আসে।’

জ্যাক আরও বলেন, ‘এ বিষয়টা বরাবরই আলোচনায় ছিল, বিশ্বের বুকে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলাতে।’

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো (ডানে) ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। ফাইল ছবি: এএফপি

ওয়াশিংটন তার এসব পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দিয়েছে এই যুক্তিতে যে, প্রেসিডেন্ট মাদুরো, তার স্ত্রী আর ভেনেজুয়েলার অন্যান্য সুপরিচিত ব্যক্তিরা মাদক-সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধের জন্য দায়ী। যদিও কারাকাসের পক্ষ থেকে বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপের বিষয়ে জ্যাক বলেন, ‘শেভরনের (যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানি) কাছে ভেনেজুয়েলার তেলের মজুত কাজে লাগানোর চুক্তি ও অর্থ বিভাগের অনুমতি রয়েছে। এই প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর প্রধানদের কাছে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করছেন।’

ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটকের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।

নতুন বছরের প্রথম দিন নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নেন জোহরান। নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, জোহরান মামদানি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেন্সকে আটক করার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটা যুদ্ধের মতো একটা কাজ। একই সঙ্গে দেশের ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিফাইল ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলায় হামলা চালনোকে অবৈধ ও অপরিণামদর্শী কাজ বলে উল্লেখ করেছে নিউইয়র্ক টাইমসের এডিটরিয়াল বোর্ড। শনিবার নিউইয়র্ক টাইমসের অনলাইন সংস্করণে পত্রিকাটির এই মত তুলে ধরা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। পরে ট্রাম্প জানান, মাদুরো ও তার স্ত্রীকে মার্কিন জাহাজে করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, মাদুরোর বিচার করা হবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে।

নিউইয়র্ক টাইমসের এডিটরিয়াল বোর্ড মনে করে, ভেনেজুয়েলায় এই হামলার ফলে দেশটির জনগণের কষ্ট বাড়বে, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়বে এবং বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্বার্থের স্থায়ী ক্ষতি হবে।

বর্তমানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি) নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে মাদুরোকে এমডিসিতে নেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে বিবিসি।

লাতিন আমেরিকার দেশটির রাজধানী কারাকাস থেকে তুলে আনার পর তাঁকে প্রায় ২ হাজার ১০০ মাইল পাড়ি দিয়ে এই আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

আগামী সপ্তাহে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে মাদক ও অস্ত্রের মামলায় আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে মাদুরোকে এই কেন্দ্রে রাখা হবে বলে জানা গেছে।

শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তুলে আনে মার্কিন সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্স। সঙ্গে আনা হয় মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও। তবে ফ্লোরেস এখন কোথায় আছেন, সেই বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর