বড় পরিসরে হামলা চালিয়ে শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) মধ্যরাতে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে স্ত্রীসহ তুলে নিয়ে আসে মার্কিন সেনাবাহিনী। এই হামলার ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় জানা গেছে এটা রাষ্ট্রপতির ‘সহজাত সুরক্ষা ক্ষমতার’ প্রয়োগ।
জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন শনিবার (৪ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, মাদুরোকে তুলে আনার জন্য মার্কিন বাহিনীর দলকে বহনকারী হেলিকপ্টারগুলো যখন এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কারাকাসে বড় বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান–দলীয় সিনেটর মাইক লি শনিবার সকালে এক পোস্টে বলেছিলেন, যুদ্ধের ঘোষণা বা সামরিক অভিযানের অনুমতি ছাড়া কোন সাংবিধানিক ভিত্তিতে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা জানার অপেক্ষায় আছেন তিনি।
কয়েক ঘণ্টা পর লি জানান, মার্কো রুবিও তাকে ফোন করে বলেছেন, শুক্রবার রাতে যে হামলা দেখা গেছে, তা মূলত গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে যাওয়া কর্মীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য করা হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো ‘সহজাত সুরক্ষা ক্ষমত’ আসলে কি?
লি বলেন, রুরিও তাকে আরও বলেছেন, এই পদক্ষেপ সম্ভবত সংবিধানের ২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীন প্রেসিডেন্টের ‘সহজাত সুরক্ষা ক্ষমতার’ আওতায় পড়ে, যা মার্কিন কর্মীদের আসন্ন হামলা থেকে রক্ষার অনুমতি দেয়।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রকিবেদন অনুসারে, ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকের এই তত্ত্ব অনুযায়ী, ফেডারেল আইন কার্যকর করতে যাওয়া কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই প্রেসিডেন্ট তাঁর সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারেন।
ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের রক্ষা করতে ফেডারেল সৈন্য মোতায়েনের ক্ষেত্রেও এই তত্ত্ব ব্যবহার করেছে।
মার্কিন জেনারেল কেইন শনিবার বলেছেন, বেশ কয়েকবার মার্কিন হেলিকপ্টারগুলো আক্রমণের মুখে পড়েছিল এবং তারা পাল্টা গুলি চালিয়েছিল। মূলত এই অভিযানে মোতায়েন করা ইউনিটের ‘আত্মরক্ষার সহজাত ক্ষমতা’র প্রয়োগ করা হয়েছে।