Wednesday 07 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মাদুরো বন্দি
ট্রাম্পের পরবর্তী টার্গেট কোথায়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৯ | আপডেট: ৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:১৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় নাটকীয় সামরিক অভিযান এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর বিশ্বজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী গন্তব্য কোথায়?

২০২৬ সালের শুরুতেই ট্রাম্পের এই ‘ডনরো ডকট্রিন’ কেবল দক্ষিণ আমেরিকা নয়, বরং আর্কটিক থেকে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত এক অস্থির ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিবিসির সাংবাদিক টম বেনেটে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা পাওয়া দেশগুলোকে তুলে ধরেছেন।

গ্রিনল্যান্ড

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি ‘পিটুফিক স্পেস বেস’ আগে থেকেই রয়েছে। তবে ট্রাম্প এখন পুরো দ্বীপটিই নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে চান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। এই অঞ্চলের চারপাশে এখন রুশ এবং চীনা জাহাজের আনাগোনা বেড়ে গেছে।’

বিজ্ঞাপন

ডেনমার্ক সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত বিশাল এই আর্কটিক দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৩ হাজার ২০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।

গ্রিনল্যান্ড দখলের পেছনে ট্রাম্পের এই আগ্রহের মূলে রয়েছে বেশকিছু কারণ। এখানে প্রচুর পরিমাণে ‘রেয়ার আর্থ মিনারেল’ বা দুর্লভ খনিজ রয়েছে, যা স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং সামরিক সরঞ্জাম তৈরির জন্য অপরিহার্য। বর্তমানে এই খনিজ উৎপাদনে চীন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে।

উত্তর আটলান্টিকে গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা আর্কটিক সার্কেলে প্রবেশের পথ সুগম করে। বরফ গলে যাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে এখানে নতুন নতুন নৌ-চলাচল পথ উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডেরিক নিলসেন ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে দিবাস্বপ্ন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আর কোনো চাপ নয়, কোনো ইঙ্গিত বা দখলের কল্পনাও নয়। আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে তা হতে হবে আন্তর্জাতিক আইন মেনে এবং যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে।

যুক্তরাষ্ট্র যদি জোরপূর্বক গ্রিনল্যান্ড দখল করার চেষ্টা করে, তবে ডেনমার্কের মতো ন্যাটো মিত্রের সঙ্গে তাদের সরাসরি সংঘাত শুরু হবে। এর ফলে পুরো ন্যাটো জোটের অস্তিত্বই সংকটের মুখে পড়তে পারে।

কলম্বিয়া

ভেনেজুয়েলায় অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। খনিজ তেল, সোনা, রুপা এবং কয়লার বিশাল ভাণ্ডার সমৃদ্ধ কলম্বিয়া দক্ষিণ আমেরিকার মাদক ব্যবসারও (বিশেষ করে কোকেন) অন্যতম কেন্দ্র।

গত সেপ্টেম্বর থেকে কোনো অকাট্য প্রমাণ ছাড়াই মাদক চোরাচালানের অভিযোগে ক্যারিবীয় অঞ্চলে নৌকা লক্ষ্য করে মার্কিন হামলা শুরু হলে বামপন্থী প্রেসিডেন্ট পেট্রোর সঙ্গে ট্রাম্পের বিবাদ চরমে পৌঁছায়। ট্রাম্পের দাবি, পেট্রো মাদক কার্টেলগুলোকে ‘ফুলেফেঁপে ওঠার’ সুযোগ করে দিচ্ছেন।

রোববার (৪ জানুয়ারি) এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসে ট্রাম্প বলেন, ‘কলম্বিয়া এমন এক অসুস্থ লোক চালাচ্ছে, যে কোকেন বানিয়ে আমেরিকায় বিক্রি করতে পছন্দ করে। সে এটা আর বেশিদিন করতে পারবে না।’

কলম্বিয়ায় সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘আইডিয়াটা আমার মন্দ লাগছে না।’

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিকভাবে কলম্বিয়া মাদকবিরোধী যুদ্ধে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল এবং প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার সামরিক সহায়তা পেত।

ইরান

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, সেখানে যদি আর কোনো আন্দোলনকারী নিহত হয়, তবে ইরানকে চরম মূল্য দিতে হবে। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর থেকেই সম্পর্ক চরম উত্তপ্ত।

ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতেই গত সপ্তাহে মার-এ-লাগো-তে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্পের ‘ডনরো ডকট্রিন’ তাত্ত্বিকভাবে পশ্চিম গোলার্ধের জন্য হলেও, ইরানের ক্ষেত্রে তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করছেন না।

মেক্সিকো

২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ‘গালফ অব মেক্সিকো’র নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার ঘোষণা দেন। তার অভিযোগ, মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ মাদক ও অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

মেক্সিকোর শক্তিশালী কার্টেল দমনে ট্রাম্প মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাম তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পের সাফ দিয়েছেন, ‘মাদক বন্যায় দেশ ভেসে যাচ্ছে, আমাদের কিছু একটা করতেই হবে।’

কিউবা

ফ্লোরিডা থেকে মাত্র ১৪৫ কিলোমিটার দূরের এই দ্বীপরাষ্ট্রটি দীর্ঘকাল মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে। কিউবার তেলের ৩০ শতাংশ আসত ভেনেজুয়েলা থেকে। এখন মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় কিউবা চরম জ্বালানি সংকটে পড়তে যাচ্ছে।

তবে ট্রাম্প মনে করেন, কিউবায় সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই, কারণ দেশটি এমনিতেই ‘ভেঙে পড়ার মুখে’।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় না কোনো অ্যাকশন দরকার আছে। মনে হচ্ছে ওটা এমনিই শেষ হয়ে যাবে। ওদের আয়ের উৎস ভেনেজুয়েলার তেল এখন বন্ধ।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবায় শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট যখন কিছু বলেন, তখন সেটাকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর