মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান চরম উত্তেজনার মধ্যে প্রতিবেশী দেশ ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আজারবাইজান।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেহুন বায়রামভ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেহুন বায়রামভ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক ফোনালাপে এই আশ্বাস দেন।
বায়রামভ বলেন, এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। ইরান ও এর আশপাশের অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে; এমন সব পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য আজারবাইজান সব পক্ষকে আহ্বান জানিয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালা অনুসরণ করে কেবল সংলাপ ও কূটনৈতিক পথেই বর্তমান সমস্যার সমাধান সম্ভব।
আজারবাইজানের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থার কড়া হুমকি দিয়ে আসছেন। ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিতে আসার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
তিনি গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো মার্কিন বিমান হামলা ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ওই হামলায় ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ইরান যদি দ্রুত আলোচনার টেবিলে না আসে, তবে পরবর্তী হামলা হবে আরও ভয়াবহ।
উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার রণতরী মোতায়েন এবং ট্রাম্পের একের পর এক হুমকির মুখে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আজারবাইজানের মতো প্রতিবেশী দেশের এই নিরপেক্ষ অবস্থানকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।