মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা এড়াতে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর দৌড়ঝাঁপের মাঝেই তেহরান জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, এই আলোচনা হতে হবে ‘ন্যায়সঙ্গত’ এবং এতে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো কথা বলা যাবে না।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ইস্তাম্বুলে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাথে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আরাগচি এসব কথা বলেন। সূত্র রয়টার্স।
আরাগচি বলেন, ইরানের আলোচনায় কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু হুমকির ছায়াতলে কোনো আলোচনা হতে পারে না। ট্রাম্প তার পোস্টে যেমনটা বলেছেন, তাদের অবশ্যই হুমকি সরিয়ে আলোচনার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, ইরানের প্রতিরক্ষা এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে কখনোই কোনো আলোচনা হবে না। দেশের নিরাপত্তার প্রয়োজনে আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা শক্তি যতটা প্রয়োজন বৃদ্ধি করব।
মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের হুমকির জবাবে আরাগচি সাফ জানিয়ে দেন, তেহরান আলোচনা বা যুদ্ধ—উভয় পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত। তবে তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তির লক্ষ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কাজ করতেও আগ্রহী।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে জানিয়েছেন, আঙ্কারা দুই দেশের মধ্যে ‘সহযোগিতাকারী’ বা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সাথে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং ইরানের একাকীত্ব ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন।
ফিদান আরও বলেন, পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়া জরুরি, যা ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথ প্রশস্ত করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে কথা বলতে চান। তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে আরও যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে আমেরিকা।
অন্যদিকে, ইজরায়েলের ইলাত বন্দরে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ নোঙর করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রাখে তবে তিনি হস্তক্ষেপ করবেন।