ভারতের মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত অজিত পাওয়ারের স্ত্রী এবং রাজ্য সভার এমপি সুনেত্রা পাওয়ার।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, আজ তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতে পারে। এর মধ্যে দিয়ে সুনিতা হতে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রথম নারী উপমুখ্যমন্ত্রী।
অজিত পাওয়ার বুধবার (২৮ জানুয়ারি) পুনের বারামতি বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত হন।
শনিবার দুপুর ২টায় ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) তাদের আইনপ্রণেতাদের নিয়ে একটি সভা ডেকেছে, যেখানে সুনেত্রাকে তাদের আইনসভা দলের প্রধান নির্বাচিত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর সন্ধ্যার মধ্যে তিনি উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
খবরে আরও বলা হয়েছে, সুনেত্রা উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ গ্রহণের পর, তাকে তার সংসদীয় আসনটি ছেড়ে দিয়ে বারামতী উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হতে পারে, কারণ অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর ফলে আসনটি শূন্য হয়ে গেছে।
এনসিপির সিনিয়র নেতা এবং খাদ্য ও বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী ছাগন ভুজবল বলেছেন, ‘সুনেত্রা পাওয়ার উপ-মুখ্যমন্ত্রী হবেন এ বিষয়ে ঐক্যমত্য রয়েছে। এনসিপি আইনসভা দলের একটি সভা হবে এবং তাকে নির্বাচিত করা হবে।’
এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, অজিত পাওয়ারের উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া থেকে তাকে সরিয়ে রাখা হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে শারদ পাওয়ার বলেন, ‘আমি জানি না।’
শারদ পাওয়ার নিজেকে সাম্প্রতিক এই রাজনৈতিক তৎপরতা থেকে দূরে রেখেছেন। তিনি দাবি করেছেন, শনিবার সন্ধ্যায় পরিকল্পিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের কথা তিনি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমেই জানতে পেরেছেন।
বারামতিতে সংবাদ সম্মেলনে পাওয়ার পরিবারের কেউ যোগ দেবেন কি না, জানতে চাওয়া হলে শারদ পাওয়ার বলেন, ‘আমরা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ব্যাপারে কিছু জানি না। খবরের মাধ্যমে এটি জানতে পেরেছি। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই।’
প্রবীণ এই নেতার মন্তব্য থেকে রাজনীতি ও পরিবারের মধ্যকার স্পষ্ট বিভাজন ফুটে উঠেছে। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে অজিত পাওয়ার তার চাচার সঙ্গ ছেড়ে নিজের আলাদা রাজনৈতিক পথ বেছে নেন। তাঁর দল এনসিপি বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয়।
সুনেত্রার প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কম। তবে, তিনি একটি রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য এবং প্রয়াত পদ্মসিংহ পাতিলের বোন, যিনি কংগ্রেস এবং কংগ্রেস-এনসিপি সরকারের অধীনে রাজ্যে একাধিক মেয়াদে ক্যাবিনেট মন্ত্রী ছিলেন। তিনি অজিত পাওয়ারের প্রচার এবং তার নির্বাচনি এলাকা বারামতিতেও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন।
তিনি ২০২৪ সালে নির্বাচনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, যখন তিনি বারামতি বিধানসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং শরদ পাওয়ারের মেয়ে সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের কাছে হেরে যান। পরে সুনেত্রা রাজ্যসভার সাংসদ হন।