ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইউরোপীয় নেতারা ইরানের অর্থনৈতিক সংকটকে পুঁজি করে দেশটিতে বিশৃঙ্খলা উসকে দিয়েছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।
ডিসেম্বরের শেষের দিকে আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহব্যাপী এই দেশব্যাপী বিক্ষোভ এখন স্তিমিত হয়ে এসেছে। তবে এই আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা ‘হারানা’র তথ্যমতে, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৬ হাজার ৫৬৩ জন। এর মধ্যে ৬ হাজার ১৭০ জন বিক্ষোভকারী এবং ২১৪ জন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, মোট নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১০০ জন, যার মধ্যে ২ হাজার জনই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘পশ্চিমা নেতারা বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন এবং নিরীহ মানুষকে এই আন্দোলনে টেনে এনেছেন।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দফায় দফায় বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারী হত্যা বন্ধ না করে তবে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্প সামরিক হামলার বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখছেন। যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। এরই মধ্যে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌ-বিধ্বংসী জাহাজ ইসরায়েলের ইলাত বন্দরে নোঙর করেছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এবং ইউরোপীয় নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, ‘তারা আমাদের সমস্যার সুযোগ নিয়ে সমাজকে খণ্ডিত করতে চেয়েছিল। এটা কেবল একটি সামাজিক আন্দোলন ছিল না, বরং দেশকে ধ্বংস করার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।’
ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়াতে তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক দেশগুলো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, আলোচনা শুরু করতে হলে ইরানকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করতে হবে। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।