Monday 02 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আলোচিত এপস্টেইন নথি কি, এ পর্যন্ত যা জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:১১ | আপডেট: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪৫

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন। ফাইল ছবি

কুখ্যাত প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত নতুন নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এসব নথি থেকে বেশ কয়েক লাখ পৃষ্ঠা উন্মোচন করা হয়। পাশাপাশি প্রয়াত এ ধনকুব–সংক্রান্ত বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এপস্টেইন নথিতে ছিল ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও ২ হাজার ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন প্রকাশিত নথি এরইমধ্যে বিশ্বব্যাপী হৈ চৈ ফেলে দিয়েছে, উন্মুক্ত হয়েছে অন্ধকার জগতের এক ভয়ংকর, অজানা দিক।

প্রকাশিত এপস্টেইনের নথিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ধনকুবের ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মতো বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এর আগে প্রকাশিত নথিতেও তাদের নাম দেখা গিয়েছিল। এ ছাড়া তালিকায় ট্রাম্পের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের নামও রয়েছে, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামও আছে।

বিজ্ঞাপন

কে এই জেফরি এপস্টেইন?

‘আমি যৌন শিকারী নই, আমি একজন অপরাধী। একজন খুনি এবং ছিঁচকে চোরের মধ্যে পার্থক্য এখানেই’- ২০১১ সালে নিউ ইয়র্ক পোস্টকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এভাবেই বলেছিলেন।

যৌন নিপীড়ন ও নারী পাচারের মামলায় গ্রেফতারের পর ১০ আগস্ট ২০১৯ তারিখে নিউ ইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করেন এপস্টেইন।

একজন অপ্রাপ্তবয়স্কের অভিযোগে পতিতাবৃত্তির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার এক দশকেরও বেশি সময় পরে, তাকে যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পতিতাবৃত্তির একটি বিশাল নেটওয়ার্ক চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছিল। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন। ফাইল ছবি

২০২৫ সালের নভেম্বরে, মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ ‘এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ অনুমোদন করে। এর পরপরই, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিল স্বাক্ষর করেন যা বিচার বিভাগকে এপস্টাইনের বিরুদ্ধে সংঘটিত ফৌজদারি তদন্ত থেকে সব ফাইল প্রকাশ করার নির্দেশ দেয়। আইনটিতে ৩০ দিনের মধ্যে অনুসন্ধানযোগ্য এবং ডাউনলোডযোগ্য ফর্ম্যাটে ফাইলগুলি প্রকাশ করার কথা বলা হয়েছে।

এখনও অপ্রকাশিত নথিগুলোর বিষয়বস্তু অজানা রয়ে গেছে।

গণিতের শিক্ষক থেকে এক সময় ধনাঢ্য ব্যবসায়ী বনে যাওয়া এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের।

নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, জর্জিয়ার ডাল্টন শহরের একটি স্কুলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান পড়াতেন এপস্টেইন। এক ছাত্রের বাবা একদিন তাকে একদিন পরিচয় করিয়ে দেন নিউইয়র্কের অন্যতম বিনিয়োগকারী ব্যাংক বিয়ার স্টার্নসের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তা এস গ্রিনবার্গের সঙ্গে।

গ্রিনবার্গের সঙ্গে দেখা করতে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বাজার ও শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু ওয়াল স্ট্রিটে যান এপস্টেইন। নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, কোনি আইল্যান্ডের এক শ্রমিক পরিবারে জন্ম নেওয়া এপস্টেইন ধনী হওয়ার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। তাকে প্রথম দেখাতেই তা বুঝতে পেরেছিলেন গ্রিনবার্গ।

টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, এপস্টেইন প্রায়ই মিথ্যা বলতেন। ১৯৮০ সালের পর তিনি নিয়মিত ফ্লোরিডার পাম বিচে যেতেন। যেখানে অনেক তরুণীর সঙ্গে তাঁর সখ্যতা গড়ে ওঠে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে তিনি নিজের প্রতিষ্ঠান ‘জে এপস্টেইন অ্যান্ড কো.’ গড়ে তোলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সম্পদ ব্যবস্থাপনা করত। সে বছর থেকেই এপস্টেইন নিজেকে ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করেন।

২০০২ সালে একটি বিশেষ জেটে করে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, অভিনেতা কেভিন স্পেসি ও ক্রিস টাকারকে আফ্রিকা ভ্রমণে নিয়ে যান। যুক্তরাজ্যের রাজনীতিবিদ পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গেও তার যোগাযোগ গড়ে ওঠে।

২০০৫ সালে ফ্লোরিডায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর মা-বাবা পুলিশকে জানান, পাম বিচে এপস্টেইনের বাড়িতে তাদের মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে। পরে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে বাড়িটির বিভিন্ন স্থানে কিশোরীদের ছবি খুঁজে পায়। পরের বছরগুলোতে বিভিন্ন সময় এপস্টেইনের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপিড়নের অভিযোগ ওঠে। সাজা হলেও তিনি বিশেষ সুবিধায় বাইরে ছিলেন। অবশেষে ২০১৯ সালে গ্রেফতার হন। ওই বছরের আগস্টে কারাগারে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ২০২১ সালে একই অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তার সাবেক প্রেমিকা ও সহযোগী গিসলাইন ম্যাক্সওয়েল।

ফাইলে কী পাওয়া গেছে

নথিপত্রগুলোয় এফবিআইয়ের তৈরি করা একটি তালিকা আছে। এতে ট্রাম্প-সংক্রান্ত যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তথ্য ছিল। অভিযোগকারীদের অনেকে ফোন করে অভিযোগ জানিয়েছেন এবং নিজেদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি। আবার কিছু অভিযোগ এমন সূত্রের কাছ থেকে এসেছে, যাদের তথ্যের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

অভিযোগগুলো এফবিআইয়ের ন্যাশনাল থ্রেট অপারেশনস সেন্টারে এসেছিল। তারা ফোনে বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে।

নথিপত্র বলছে, তদন্তকারীরা কিছু অভিযোগের ওপর অনুসন্ধান করেছেন। তবে কিছু অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প, জেফরি এপস্টেইন, ইলন মাস্ক, বিল গেটস ফাইল ছবি: রয়টার্স

নথিপত্রে থাকা একটি খসড়া ই-মেইলে এপস্টেইন অভিযোগ করেছেন যে বিল গেটস বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন।

ই-মেইলে এপস্টেইন লিখেছেন, রুশ মেয়েদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক এবং বিবাহিত নারীদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের জন্য বিল গেটসকে সুযোগ তৈরি করে দিতে তিনি কাজ করেছেন।

নথিপত্রে এপস্টেইন ও ধনকুবের মাস্কের মধ্যে অনেক ই–মেইল আদান–প্রদানের তথ্য রয়েছে।

২০১২ সালের নভেম্বরে মাস্ককে একটি ই–মেইল পাঠান এপস্টেইন। সেখানে তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘হেলিকপ্টারে করে আইল্যান্ডে কতজন আসবে?’

মাস্কের জবাব ছিল, ‘সম্ভবত শুধু তালুলাহ আর আমি। আপনার দ্বীপে সবচেয়ে উন্মত্ত পার্টি কোন দিন/রাতে হবে?’

নথিপত্রে দেখা যায়, ধনকুবের রিচার্ড ব্র্যানসন ও এপস্টেইনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।

যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরের নাম নতুন নথিতেও রয়েছে। ব্রিটিশ রাজপরিবারের এ সদস্য ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এপস্টেইনকে তার লন্ডন সফরের সময় বাকিংহাম প্যালেসে আমন্ত্রণ জানান।

প্রকাশ হওয়া ই–মেইলে দেখা গেছে, ব্যবসায়ী হাওয়ার্ড লুটনিক (বর্তমানে ট্রাম্পের বাণিজ্যমন্ত্রী) ২০১২ সালের ডিসেম্বরে এপস্টেইনের ক্যারিবীয় দ্বীপে দুপুরের খাবার খাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রু। ছবি: বিবিসি

বেশকিছু নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম এসেছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্ক টাইমসের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বিচার বিভাগ কোনো সম্পাদনা ছাড়াই তাদের ওয়েবসাইটে ডজনখানেক তরুণীর নগ্ন ছবি প্রকাশ করেছে, যাতে তাদের মুখমণ্ডল স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। এসব তরুণীর ছবি মার্কিন ধনকুবের যৌন নিপীড়ক ও নারী পাচারকারী জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিপত্রের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

এপস্টেইন ফাইলস প্রকাশের বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে এসব তরুণীর স্পষ্ট মুখমণ্ডলের ছবি সম্পাদনা করে অস্পষ্ট করে দেওয়া বা মুছে দেওয়া ফেডারেল সরকারের দায়িত্ব ছিল। কারণ, ছবি এমন স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে ভুক্তভোগীদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়।

বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা পর্যালোচনা করতে গিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস প্রায় ৪০টি স্পষ্ট ছবি খুঁজে পায়। ছবিগুলো একটি ব্যক্তিগত ফটো সংগ্রহের অংশ বলে মনে হয়, যেখানে নগ্ন দেহ এবং ছবিতে থাকা ব্যক্তিদের মুখও দেখা যাচ্ছিল।

ছবির ব্যক্তিরা দেখতে তরুণ মনে হলেও তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক কি না, তা স্পষ্ট নয়। কিছু ছবিতে সমুদ্রসৈকতসহ এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপের দৃশ্য দেখা যায়। অন্য কিছু ছবি তোলা হয়েছে শোবার ঘর ও ব্যক্তিগত স্থানে।

নথি প্রকাশের দিন মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী এপস্টেইন একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তবে তার দাবি, এপস্টেইন–সম্পর্কিত বিপুল নথিপত্র পর্যালোচনায় বিচার বিভাগের ওপর হোয়াইট হাউস প্রভাব খাটায়নি।

এক সংবাদ সম্মেলনে ব্লাঞ্চ বলেন, ‘কীভাবে আমাদের পর্যালোচনা করতে হবে, কী দেখতে হবে, কোন অংশ কালো কালি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে, কিংবা কোন অংশ ঢেকে দেওয়া যাবে না—সেসব বিষয়ে তারা (হোয়াইট হাউস) বিচার বিভাগকে কোনো নির্দেশনা দেয়নি।’

এপস্টেইনের নথিতে ট্রাম্প–সংক্রান্ত বিব্রতকর বিষয়গুলো কালো কালিতে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। তবে ব্লাঞ্চ তা নাকচ করে দিয়েছেন। ব্লাঞ্চ একসময় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

নতুন শিক্ষা আইনের খসড়া প্রকাশ
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩৪

সংসার সুখের হয় দুজনের গুণে
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:২৬

আরো

সম্পর্কিত খবর