মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই শুক্রবার ওমানে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা যায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আঞ্চলিক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, তেহরানের অনুরোধেই আলোচনার কেন্দ্রস্থল তুরস্ক থেকে সরিয়ে ওমানে নেওয়া হয়েছে, যাতে আলোচনার পরিধি শুধুমাত্র ‘পারমাণবিক কর্মসূচি’র মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা তাদের শক্তিশালী ব্যালেস্টিক মিসাইল কর্মসূচি নিয়ে কোনো প্রকার আপস করবে না। এটিকে তারা আলোচনার চূড়ান্ত সীমা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
তেহরানের দাবি, গত বছর ইসরায়েলি হামলার পর তারা তাদের মিসাইল ভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ করেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে তা ব্যবহারে তারা দ্বিধা করবে না।
অন্যান্য আঞ্চলিক দেশগুলো (পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, মিশর ও ইউএই) এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকতে চাইলেও ইরান শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ওপর জোর দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি।’ তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
জানা গেছে, এই আলোচনায় মার্কিন পক্ষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ অংশ নিতে পারেন। অন্যদিকে ইরানের পক্ষে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
এর আগে মঙ্গলবার আরব সাগরে মার্কিন রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’র দিকে ধেয়ে আসা একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে মার্কিন বাহিনী। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারকে থামানোর চেষ্টা করে ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ডের স্পিডবোট, যদিও ট্যাঙ্কারটি দ্রুত গতিতে চলে যেতে সক্ষম হয়।
গত সপ্তাহে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ট্রাম্প আলোচনার জন্য তিনটি শর্ত দিয়েছেন; ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামানো, ব্যালেস্টিক মিসাইল কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা এবং আঞ্চলিক ছায়াযুদ্ধ (proxies) বন্ধ করা। ইরান এই শর্তগুলোকে সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত বললেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে কিছুটা নমনীয়তা দেখানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।