লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) তার আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ফাওয়াসেল মিডিয়া’ জানিয়েছে, লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার দূরে জিনতান শহরে নিজের বাড়িতেই তিনি আততায়ীদের হাতে নিহত হন।
তার রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চারজন মুখোশধারী ব্যক্তি বাড়ি ঘেরাও করে তাকে হত্যা করেছে। হামলাকারীরা বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে মৃত্যুর আগে সাইফ আল-ইসলাম হামলাকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
১৯৭২ সালে জন্ম নেওয়া সাইফ আল-ইসলামকে এক সময় তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে মনে করা হতো। লন্ডনে শিক্ষিত এবং সাবলীল ইংরেজিতে কথা বলতে পারা সাইফ শুরুর দিকে গাদ্দাফি সরকারের এক প্রগতিশীল মুখ হিসেবে পরিচিতি পান। পাশ্চাত্যের সঙ্গে লিবিয়ার সম্পর্ক উন্নয়ন এবং লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগের ক্ষেত্রে তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন।
তবে ২০১১ সালে যখন লিবিয়ায় বিদ্রোহ শুরু হয়, তখন তিনি তার ‘সংস্কারক’ ভাবমূর্তি ঝেড়ে ফেলে বাবার সরকারের পক্ষ নেন। বিদ্রোহীদের দমন করার অঙ্গীকার করে তিনি তখন বলেছিলেন, লিবিয়ার জন্য শেষ বুলেট পর্যন্ত লড়াই করব।
২০১১ সালে ত্রিপোলির পতন হলে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু জিনতানের বিদ্রোহীদের হাতে ধরা পড়েন। ২০১৭ সালে সাধারণ ক্ষমার অধীনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে তিনি জিনতানেই আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ছিল এবং লিবিয়ার একটি আদালত তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।
২০২১ সালে তিনি লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেসময় দেশটিতে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। তার প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধ এবং আইনি জটিলতা শেষ পর্যন্ত লিবিয়ার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছিল।