জেফরি এপস্টেইনের বান্ধবী গিসলাইন ম্যাক্সওয়েল এর একটি ইমেইল থেকে জানা গেছে, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেনের সঙ্গে ভার্জিনিয়া জিউফ্রে নামের এক নারীর তোলা ছবিটি আসল।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বৃটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। আলোচিত এপস্টেইন ফাইলসের সর্বশেষ প্রকাশিত নথিতে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন এবং ভার্জিনিয়া জিউফ্রের ছবিটি পাওয়া গেছে।
ছবিটি প্রকাশের জেরে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাক্ষ্য দিতে মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। তিনি যুক্তরাজ্যের উইন্ডসর শহরে অবস্থিত রয়্যাল লজ ছেড়ে নরফোকের স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এপস্টেইনে ফাইলের সর্বশেষ অংশ হিসাবে ২০১৫ সালে জেফরি এপস্টেইনকে ‘জি ম্যাক্সওয়েল’(গিসলাইন ম্যাক্সওয়েল) এর নামে পাঠানো ‘খসড়া বিবৃতি’ শিরোনামে একটি মেইল প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে ম্যাক্সওয়েল লিখেছেন, ২০০১ সালে আমি যখন লন্ডনে ছিলাম তখন প্রিন্স অ্যান্ড্রুসহ আমার বেশ কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আমার মনে পড়ে তখন তিনি (জিউফ্রে) তার বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারকে দেখানোর জন্য এই ছবিটি তুলেছিলেন।
২০১৪ সালে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের প্রথম অভিযোগ তুলেছিলেন ভার্জিনিয়া জিউফ্রে নামের আরেক নারী। জিউফ্রে অভিযোগ করেছিলেন, এপস্টেইন ও তার বান্ধবী গিলেন ম্যাক্সওয়েল তাকে পাচার করেছিলেন এবং ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেছিলেন। ওই সময় তার বয়স ছিল ১৭ বছর।
অ্যান্ড্রু বরাবরই জিউফ্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জিউফ্রের পরিবার বিবিসির নিউজনাইটকে জানিয়েছে, ইমেলটি প্রমাণ করে তার অভিযোগ সঠিক।
জিউফ্রের ভাই স্কাই রবার্টস বলেন, ‘এটা প্রমাণ করে ভার্জিনিয়া মিথ্যা বলেনি সে সঠিক ছিল ।
তিনি আরও বলেন, ‘এটা এমন একটি মুহূর্ত যেখানে আমরা আমাদের বোনের জন্য সত্যিই গর্ব করতে পারি।’
মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশ করা মেলটিতে আরও বলা হয়েছে যে ‘জি ম্যাক্সওয়েল’ তার বাড়িতে ‘কোনও অনুচিত’ ঘটনা ঘটছে কিনা তা জানতেন না।
বিবৃতির প্রকাশিত সংস্করণ থেকে ব্যক্তির নাম মুছে ফেলা হয়েছে, তবে বিশদ বিবরণ থেকে জানা যায় যে ম্যাক্সওয়েলই জিউফ্রের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন।
জিউফ্রে অভিযোগ করেছেন, মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর কিশোর বয়সে তার সঙ্গে তিনবার যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন।
অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন এই দাবি অস্বীকার করেছেন এবং ২০২২ সালে জিউফ্রের সঙ্গে আদালতের বাইরে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। এতে কোনও দায় স্বীকার বা ক্ষমা চাওয়ার কথা ছিল না।
গত বছর, মার্কিন হাউস ওভারসাইট কমিটিতে ডেমোক্র্যাটদের প্রকাশিত এপস্টাইনের জুলাই ২০১১ সালের একটি ইমেলও নিশ্চিত করেছে যে প্রাক্তন রাজপুত্র জিউফ্রের সঙ্গে ছবিটি তুলেছেন।
যিনি ছবিটি তুলেছিলেন তিনিও স্বীকার করে বলেছেন, ‘হ্যাঁ, তিনি জিউফ্রে আমার বিমানে ছিলেন এবং অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তার ছবি তোলা হয়েছিল।
২০১৯ সালে নিউজনাইটের সাথে এক সাক্ষাৎকারে, মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর জিউফ্রে সাথে দেখা করার কথা অস্বীকার করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন ছবিটি জাল হতে পারে।
তিনি সেই সময় বলেছিলেন, কেউ প্রমাণ করতে পারবে না যে ছবিটি জাল করা হয়েছে কিনা, তবে আমার মনে নেই যে ছবিটি কখনও তোলা হয়েছিল কিনা।
তিনি আরও দাবি করেন, তিনি সে সময় ম্যাক্সওয়েলের বাড়িতে ছিলেন না, বরং ওকিং-এর একটি পিৎজা এক্সপ্রেসে ছিলেন।
ভার্জিনিয়া জিউফ্রে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। ২০২২ সালে আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের সমঝোতায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। জিউফ্রে গত বছর আত্মহত্যা করেন।
জিউফ্রের মরণোত্তর স্মৃতিকথা প্রকাশের পর গত বছরের অক্টোবরে অ্যান্ড্রুর প্রিন্স উপাধি বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে ঘোষণা করা হয়, তাকে উইন্ডসর এস্টেটের রয়্যাল লজ বাসভবন ছাড়তে হবে। তিনি ২০০৪ সাল থেকে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন তিনি অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন–উইন্ডসর নামে পরিচিত হন।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন–সংক্রান্ত যেসব নথি, ই–মেইল ও ছবি প্রকাশ করেছে, সেগুলোতে কুখ্যাত এ যৌন নিপীড়কের বিস্তৃত যোগাযোগ নেটওয়ার্কের চিত্র উঠে এসেছে। এতে বড় বড় তারকা, ব্যবসায়ী ও বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের তথ্য রয়েছে।
২০০৮ সালে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌনবৃত্তিতে প্রলুব্ধ করার দায়ে এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও প্রভাবশালী মানুষদের সঙ্গে তার সম্পর্ক বজায় ছিল।