এপস্টেইন কেলেঙ্কারিকে ঘিরে নতুন করে প্রকাশ পাওয়া তথ্যের পর প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। তিনি বলেছেন, তার ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে পুলিশ চাইলে বাকিংহাম প্যালেস তাদের সহায়তা করবে।
বাকিংহাম প্যালেসের এক মুখপাত্র জানান, অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে রাজা (চার্লস) খুবই উদ্বিগ্ন।
তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে জবাবদিহি দেওয়ার দায় মি. মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের। তবে থেমস ভ্যালি পুলিশ যদি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, আমরা তাদের সহায়তা করবো।’
থেমস ভ্যালি পুলিশ জানিয়েছে, রাজতন্ত্রবিরোধী সংগঠন ‘রিপাবলিক’-এর করা একটি অভিযোগ তদন্ত করার মতো কিনা, তা তারা যাচাই করে দেখছে। ওই সংগঠন প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ করেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিপত্রে পাওয়া ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, প্রিন্স অ্যান্ড্রু সিঙ্গাপুর, হংকং ও ভিয়েতনাম সফরের তথ্য এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত গোপন তথ্য জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে পাঠিয়েছিলেন।
২০১০ সালের ৩০ নভেম্বর সফরসংক্রান্ত একটি সরকারি প্রতিবেদন পাওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তিনি সেটি তার তৎকালীন বিশেষ উপদেষ্টা অমিত প্যাটেলের কাছ থেকে নিয়ে এপস্টেইনের কাছে পাঠান বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া আফগানিস্তানে বিনিয়োগসংক্রান্ত কিছু ‘গোপন তথ্য’-ও ২০১০ সালের ২৪ ডিসেম্বর এপস্টেইনের কাছে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বাণিজ্য দূতদের দায়িত্ব হলো তাদের সফরসংক্রান্ত সংবেদনশীল বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক তথ্য গোপন রাখা।
বাকিংহাম প্যালেসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজা ও রানির সহমর্মিতা ভুক্তভোগী সব মানুষদের সঙ্গে রয়েছে এবং থাকবে।
এর আগে প্রিন্স অব ওয়েলস উইলিয়াম ও তার স্ত্রী কেট মিডলটনের কার্যালয় থেকেও একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, এপস্টেইন কেলেঙ্কারি নিয়ে নতুন তথ্য তাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে এবং তারা ভুক্তভোগীদের প্রতি সহমর্মী।
এপস্টেইন সংক্রান্ত আরও প্রায় ৩০ লাখ নথি প্রকাশের পর প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ওপর চাপ আরও বেড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এপস্টেইন এক নারীকে যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছিলেন তার (অ্যান্ড্রু) সঙ্গে যৌন সম্পর্কের জন্য।
নতুন নথিতে এমন কিছু ছবিও রয়েছে, যেখানে প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে এক নারীর ওপর হামাগুড়ি দেওয়া অবস্থায় দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তার সাবেক স্ত্রী সারা ফার্গুসনের নামও আলোচনায় এসেছে। সারার স্বাক্ষরিত কিছু ইমেইলে এপস্টেইনের কাছে আর্থিক সহায়তা ও সাহায্য চাওয়ার আবেদন দেখা গেছে।
এ দিকে, গত সপ্তাহে প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে উইন্ডসরের রয়্যাল লজ থেকে রাজার ব্যক্তিগত এস্টেট স্যান্ড্রিংহামে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে আগের এক দফা তথ্য প্রকাশের পর তাকে রাজকীয় উপাধি ও ডিউকের মর্যাদা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রিন্স অ্যান্ড্রু বরাবরই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে নাম থাকা মানেই কোনো অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।