গাজা উপত্যকায় নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হামাসের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় তারা এই হামলা চালিয়েছে। তবে হামাস এই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
উত্তর গাজার জাবালিয়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবু লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মানুষ যখন ঘুমাচ্ছিল তখন এই হামলা চালানো হয়। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ভোরে চালানো আরেকটি পৃথক হামলায় ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গাজা সিটিতে গোলন্দাজ হামলায় একজন এবং বেইত লাহিয়ায় ইসরায়েলি গুলিতে আরও একজন নিহত হয়েছেন।
আল-শিফা এবং নাসের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অন্তত সাতটি মরদেহ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’র প্রথম বৈঠকের মাত্র কয়েক দিন আগে এই হামলার ঘটনা ঘটল। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম একে বাস্তুচ্যুতদের ওপর ‘নতুন গণহত্যা’ এবং যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তার দাবি, হামাস চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে সশস্ত্র অবস্থায় তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করেছে। ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ইসরায়েলি বাহিনীর কাছাকাছি অবস্থান নেওয়ায় তারা আত্মরক্ষার্থে এই হামলা চালিয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েলি সেনারা নির্দিষ্ট সীমানার পেছনে সরে যাওয়ার কথা থাকলেও, গাজার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে। ইসরায়েল একতরফাভাবে ‘ইয়েলো লাইন’ পরিবর্তন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, হামাস এখনো তাদের অস্ত্র সমর্পণের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৬০১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বিপরীতে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে এই সময়ে তাদের ৪ জন সেনা নিহত হয়েছে।