কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পিটিআই দাবি করেছে, তাদের নেতাকে পরিবারকে না জানিয়ে গোপনে জেলখানা থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। এই পদক্ষেপকে মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং তার জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে দলটি।
অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত আইনজীবী সালমান সাফদারের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ৮৫ শতাংশ হারিয়ে গেছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এনডিটিভির প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।
এক বিবৃতিতে পিটিআই বলেন, ‘পরিবারকে আড়ালে রেখে ইমরান খানকে গোপনে হাসপাতালে স্থানান্তরের যেকোনো প্রচেষ্টা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। এটি মানবাধিকার ও প্রচলিত আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। অতীতের ধারাবাহিকতায় তথ্য গোপন করার এই চেষ্টা মূলত ইমরান খানের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলার শামিল।’
দলের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের চিকিৎসা পরীক্ষা অবশ্যই ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং পরিবারের অন্তত একজন সদস্যের উপস্থিতিতে হতে হবে।
এনডিটিভির হাতে আসা সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত আইনজীবী সালমান সাফদারের একটি প্রতিবেদনে ইমরান খানের স্বাস্থ্যের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যথাযথ চিকিৎসার অভাবে ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ৮৫ শতাংশ হারিয়ে গেছে।
দীর্ঘ নির্জন কারাবাস এবং কর্তৃপক্ষের অবহেলায় তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে।
পিটিআই এই আচরণকে ‘অমানবিক, অবৈধ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেছে।
ইমরান খান নিজে জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে কেবল বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সুবিধাটুকুই আশা করছেন।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি শুক্রবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে ইসলামাবাদের নবনির্মিত একটি জেলখানা চালু হবে। তখন ইমরান খানকে সেখানে স্থানান্তর করা হতে পারে। ওই নতুন কারাগারে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা থাকবে বলে তিনি জানান। বর্তমানে তিনি রাওয়ালপিন্ডির উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন।
ইমরান খানের সমর্থকদের মতে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সমর্থিত ‘ডিপ স্টেট’ একজন জনপ্রিয় বেসামরিক নেতাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে ফেলার অস্ত্র হিসেবে এই কারাবাস ও অমানবিক আচরণকে ব্যবহার করছে।