Thursday 19 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩৫ | আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩৪

একজন ব্যক্তি মানুষের দেহাবশেষ ভর্তি বস্তা দেখছেন। ছবি: এএফপি

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো গণহত্যায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আগের সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট–এ প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শুরুর দিকেই গাজায় ৭৫ হাজারের বেশি ‘সহিংস মৃত্যু’র ঘটনার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা নিয়ে যে অতিরঞ্জিত তথ্য দেয়নি, ধারাবাহিক এসব গবেষণা সেটিই স্পষ্ট করেছে। সেই সঙ্গে তা ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানির বিস্তৃতি নিয়ে শক্তপোক্ত ও নির্ভরযোগ্য ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথে প্রকাশিত ‘গাজা মরটালিটি সার্ভে’ বা জিএমএস নামের খানাভিত্তিক জরিপে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত গাজায় ৭৫ হাজার ২০০ জনের ‘সহিংস মৃত্যুর’ খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর আগে গাজার মোট জনসংখ্যা ২২ লাখের প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

একই সময় গাজায় ৪৯ হাজার ৯০ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছিল হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ল্যানসেটে প্রকাশিত হিসাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যের চেয়ে ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

এ বছরের ২৭ জানুয়ারি গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭১ হাজার ৬৬২–এ দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর নিহত হয়েছেন ৪৮৮ জন। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়।

ইসরায়েল বরাবরই গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হতাহতের তথ্যের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও গত জানুয়ারিতে ইসরায়েলি এক সেনা কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধ চলাকালে গাজায় প্রায় ৭০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীও মনে করছে।

নিহতের সংখ্যাটি বেশি হলেও গবেষকদের মতে, হতাহতদের জনমিতিক হার ফিলিস্তিনের সরকারি তথ্যের সঙ্গে বিস্ময়করভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্কদের হার সব মিলিয়ে ৫৬ দশমিক ২ শতাংশ। ফিলিস্তিনের সরকারি হিসাবের সঙ্গে এ তথ্য অনেকটাই কাছাকাছি।

গাজা মরটালিটি সার্ভেতে ২ হাজার খানার ৯ হাজার ৭২৯ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। নিহতের সংখ্যা নির্ধারণে একটি কঠোর প্রমাণভিত্তিক গবেষণাকাঠামো অনুসরণ করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক লন্ডনের রয়্যাল হলোওয়ে ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক মাইকেল স্পাগাট বলেন, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নিহতের সংখ্যাটি বিশ্বাসযোগ্য। তবে সেখানে বিধ্বস্ত ভবনগুলোর নিচে এখনো কত মরদেহ চাপা পড়ে আছে, সেটা জানা না থাকায় সংখ্যাটি সবচেয়ে কম ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মন খারাপ থাকলে কি করবেন?
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩৮

আরো

সম্পর্কিত খবর