পাকিস্তানের সামরিক অভিযানে তালিবান শাসনের ২৭৪ জন সদস্য ও ‘খারিজি’ (জঙ্গি) নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও চার শতাধিক। একই সঙ্গে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী আফগান বাহিনীর ৭৩টি চৌকি ধ্বংস করেছে এবং ১৮টি দখল করে নিয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী আফগান বাহিনীর ১১৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান (এপিসি) এবং কামান ধ্বংস করা হয়েছে।
পাকিস্তানের ওপর গতরাতের হামলার জন্য আফগান তালিবান সরকারকে দায়ী করে ডিজি আইএসপিআর তাদের একটি ‘আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘গতরাতের এই আগ্রাসনটি একটি বড় প্রক্সি শক্তি (আফগান তালিবান) এবং সন্ত্রাসী সংগঠনের পারস্পরিক যোগসাজশ ও সহায়তায় চালানো হয়েছে।’
আরও পড়ুন-আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত বন্ধের প্রস্তাব আফগানিস্তানের
তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাবুল, কান্দাহার, পাকতিয়া, নানগারহার, খোস্ত এবং পাকতিকার ২২টি সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল-আফগান তালিবান বাহিনীর প্রধান সদর দফতর, ব্রিগেড, ব্যাটালিয়ন এবং সেক্টর সদর দফতর, গোলাবারুদ ও সমরাস্ত্র ডিপো এবং লজিস্টিক বেস, সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল ও সহায়তাকারীদের গোপন আস্তানা।
তিনি দাবি করেন, বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এই সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো নির্বাচন করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন-পাকিস্তানে তালেবানের পালটা হামলায় ৫৫ সেনা নিহতের দাবি
দেশের অখণ্ডতা রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তানের ১২ জন সৈন্য নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সামরিক মুখপাত্র। এ ছাড়া আরও ২৭ জন আহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।