ইরানের আকাশ বা জলসীমা তো বটেই, ভূখণ্ডে কোনো প্রকার স্থল অভিযানের দুঃসাহস দেখালে একজন আক্রমণকারীকেও জীবিত রাখা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি।
বৃহস্পতিবার (২মার্চ) সেনাবাহিনীর কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার থেকে দেওয়া এক জরুরি ভাষণে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানি সেনাবাহিনী এখন ইতিহাসের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক অবস্থানে রয়েছে।
জেনারেল হাতামি তাঁর ভাষণে স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর কমান্ডারদের প্রতি চরম সতর্কবার্তা জারি করে বলেন, শত্রুর প্রতিটি পদক্ষেপ যেন সেকেন্ডের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যদি কোনো শত্রু সেনা ইরানের পবিত্র মাটিতে পা রাখার ধৃষ্টতা দেখায়, তবে তাদের প্রতি কোনো দয়া প্রদর্শন করা হবে না। এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করা হবে যেন একজন আক্রমণকারীও প্রাণ নিয়ে নিজ দেশে ফিরতে না পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে হাতামি বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী ইরানকে নতুন করে সাজানোর আমেরিকান দাবি আসলে ইরান রাষ্ট্র ও জাতির অস্তিত্ব মুছে ফেলার এক গভীর নীল নকশা। কিন্তু জনতা ও সেনাবাহিনী আজ একতাবদ্ধ। যতক্ষণ ইরানিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে, ততক্ষণ এই অঞ্চলের কোনো স্থানই নিরাপদ থাকবে না বলে তিনি চরম সতর্কবার্তা দেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য এখন বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের জবাবে ইরানও ক্রমাগত ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেল হাতামির এই ‘ডু অর ডাই’ ঘোষণা চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ ও চূড়ান্ত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিল। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে শত্রুর যেকোনো পদক্ষেপের দাঁতভাঙা জবাব দিতে এখন স্রেফ ট্রিগারে আঙুল রেখে অপেক্ষা করছে তেহরান।