গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার পরও ইরানের অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনও অক্ষত রয়েছে। এ ছাড়া দেশটির রয়েছে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদও।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নের বরাতে তিনটি সূত্র সিএনএনকে এসব তথ্য জানিয়েছে বলে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
সিএনএনকে ওই তিনটি সূত্র বলেছে, ইরানের ভাণ্ডারে এখনো হাজার হাজার ড্রোনও মজুত আছে।
ইরান সম্পর্কে একটি সূত্র বলেছে, ‘এখনও পুরো অঞ্চলে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সক্ষমতা তাদের রয়েছে।’
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন কিছু লঞ্চারের কথাও বলা হয়েছে, যেগুলো হয়তো হামলার কারণে মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে কিন্তু পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। ফলে এগুলো আপাতত ব্যবহারের অনুপযোগী হলেও সচল রয়েছে।
দুটি সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ড্রোন সক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ এখনো অটুট আছে। এর অর্থ হলো, তাদের হাতে এখনো হাজার হাজার ড্রোন রয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ মিসাইলের এক বড় অংশও অক্ষত আছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরান উপকূলে খুব একটা বিমান হামলা না চালানোয় এগুলো রক্ষা পেয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মাধ্যমে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।
সিএনএন-এর উল্লেখ করা সূত্র অনুসারে, যদিও ইরানের নৌবাহিনীর জাহাজগুলো বহুলাংশে ধ্বংস হয়ে গেছে,তারপরও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের অন্তর্ভুক্ত পৃথক নৌবাহিনীগুলোর এখনও তাদের সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক অবশিষ্ট রয়েছে। এবং তাদের কাছে হাজার হাজার না হলেও শত শত ছোট নৌকা এবং চালকবিহীন জলযান রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা জনসমক্ষে সামরিক বিজয়ের দাবি করেছেন। তবে গোয়েন্দা তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। এসব তথ্য ইরানের টিকে থাকা সামরিক শক্তি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ও ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরছে।
গত বুধবার (১ এপ্রিল) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তাদের অস্ত্র কারখানা ও রকেট লঞ্চারগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। এখন খুব অল্পসংখ্যক টিকে আছে।’
তবে গোয়েন্দা তথ্য বলছে, লঞ্চার ছাড়াও ইরানের কাছে এখনো বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে।
প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দ্রুত ধ্বংস করা হচ্ছে। তবে ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশ ও মার্কিন সেনারা এখনো নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ছে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল সিএনএনের এই প্রতিবেদনকে ‘পুরো ভুল’ বলে দাবি করেছেন।
পার্নেল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানি শাসনব্যবস্থার ওপর চরম আঘাত হেনেছে। আমাদের লক্ষ্যগুলো সময়ের আগেই অর্জিত হচ্ছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং তাদের প্রক্সি বাহিনীকে নির্মূল করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের সচল লঞ্চারের সংখ্যা আরও কম, মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। তবে সুড়ঙ্গ বা গুহায় চাপা পড়া কিংবা অকেজো হয়ে পড়া লঞ্চারগুলোকে এই হিসাবের মধ্যে ধরছেন না তাঁরা। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।
আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান শেষ হবে বলে গত বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন।
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করা একটি সূত্র ট্রাম্পের এই লক্ষ্যকে ‘অবাস্তব’ বলে উল্লেখ করেছে। ইরানের হাতে এখনো যা শক্তি আছে, তাতে এত দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়া অসম্ভব বলে মনে করছে তারা।