ইরানের মিত্র চীন ও রাশিয়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার লক্ষ্যে আনা একটি প্রস্তাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দিয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে গেছে।
বাহরাইন প্রস্তাবিত খসড়া প্রস্তাবে দেশগুলোকে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ সমন্বয়ের জন্য “জোরালোভাবে উৎসাহিত” করা এবং জলপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবটি পেশ করা হয়।
নিরাপত্তা পরিষদের ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় এবং দুটি দেশ (পাকিস্তান ও কলম্বিয়া) ভোটদানে বিরত থাকে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া ভেটো দেওয়ায় প্রস্তাবটি পাশ হয়নি।
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়া—যে কোনো এক সদস্য ভেটো দিলে পরিষদে যে কোনো প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওয়াল্টজ চীন ও রাশিয়ার এই ভোটের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘তারা এমন একটি দেশের পক্ষ নিয়েছে, যেটি উপসাগরীয় অঞ্চলকে ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়।’
অন্যদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক আইনের জন্য “একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত” তৈরি করবে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি এই সভায় সভাপতিত্ব করেন। ভোটের আগে তিনি কাউন্সিল সদস্যদের বলেন, এই প্রস্তাব নতুন কোনো বাস্তবতা তৈরি করছে না; বরং এটি ইরানের ক্রমাগত বৈরী আচরণের বিরুদ্ধে একটি কঠোর পদক্ষেপ, যা বন্ধ হওয়া জরুরি।
কয়েক সপ্তাহের দীর্ঘ আলোচনার পর মূল খসড়া প্রস্তাবটি বেশ কয়েকবার সংশোধন করা হয়। শুরুতে এটি ‘চ্যাপ্টার সেভেন’ (যা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেয়) এর অধীনে থাকলেও পরে তা সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ‘প্রয়োজনীয় সব প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি’ সংক্রান্ত অংশটিও বাদ দিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক প্রচেষ্টাকে ‘জোরালোভাবে উৎসাহিত’ করার কথা বলা হয়েছিল।