যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সম্মত হয়েছে ইরান।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের আগে যুদ্ধবিরতির কাঠামোতে সমঝোতা হলে তেহরান বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারে।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদভাবে চালু করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, প্রণালিটি পুনরায় চালু করার বিষয়টি ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে করা হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতিতে হরমুজ খুলে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ আছে। ইরান সেটি মেনে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ সামুদ্রিক রুটে আবারও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে। তবে তারা এ মুহূর্তে সেখান দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে টোল নেবে। এছাড়া হরমুজের প্রবেশদ্বারের দেশ ওমানও টোল আদায় করবে বলে জানিয়েছিল তেহরান। কিন্তু পরবর্তীতে ওমান জানায়, তারা হরমুজ দিয়ে চলা কোনো জাহাজ থেকে অর্থ আদায় করবে না।
এর আগে বুধবার (৮ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এরপর ইসরায়েলও ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান করিডর। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো বিঘ্ন সরাসরি প্রভাব ফেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ইরানের নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থানের কারণে প্রণালিটি কার্যত সীমিত হয়ে পড়েছিল। যুদ্ধ চলাকালে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অচলাবস্থা বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস বাজারকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল। তেহরানের অনুমতি ছাড়া জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।