মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিতে ইরানের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
রোববার (১২ ডিসেম্বর) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি ‘ইরানি জাতির ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আপনি যদি লড়াই করেন, আমরা লড়াই করব; আর যদি যুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসেন, আমরা যুক্তি দিয়েই মোকাবিলা করব।’
এদিকে মার্কিন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রণালিটি অবরোধ করলে কীভাবে ইরানকে সেটি খুলতে বাধ্য করা যাবে—তা স্পষ্ট নয়।’
অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি বেসামরিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে কোনো সামরিক জাহাজ সেখানে প্রবেশ করলে তা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ‘কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে’।
এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর ‘অবরোধ’ আরোপের প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করবে মার্কিন বাহিনী। তিনি জানান, যারা ইরানকে টোল দিয়েছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় সেইসব জাহাজ খুঁজে বের করে গতিরোধ করতে মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোন জাহাজ চলাচল করবে তা ইরান নির্ধারণ করতে পারে না। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘ইরানকে তাদের পছন্দের দেশে তেল বিক্রি করে আয় করতে দেওয়া হবে না—এটি হবে ‘সব অথবা কিছুই না’।’’
তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য অবরোধটি ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মতো হলেও আরও বিস্তৃত হবে। একইসঙ্গে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমি চাইলে একদিনেই ইরানের জ্বালানি খাত ধ্বংস করে দিতে পারি—তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সবকিছু।’