Monday 13 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ব্যর্থ শান্তি আলোচনা
ট্রাম্পের ভাবনায় আবার যুদ্ধ, কী বলছে ইরান

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২৯ | আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০২

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানে গিয়েছিল ইরানের প্রতিনিধিদল। ছবি: রয়টার্স

প্রায় ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা, শেষ পর্যন্ত হয়নি কোনো সমঝোতা। গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি ছাড়াই ভেস্তে গেছে। দুই পক্ষের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য দূর করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ বৈঠক, নানা প্রস্তাব ও পালটাপালটি অভিযোগের পরও দুই পক্ষের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় আশা জাগানো এই আলোচনা ভেস্তে যায়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, এই ব্যর্থতা হঠাৎ করে নয় বরং দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস, কৌশলগত দ্বন্দ্ব এবং জটিল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন। ইরানের রাষ্ট্রীয় ও ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সূত্রের দাবি, আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ার মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ‘কঠোর ও অযৌক্তিক’ অবস্থান। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের কিছু দাবি এমন পর্যায়ের ছিল, যা শুধু আলোচনায় নয়, যুদ্ধের ময়দানেও অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে কোনও সমঝোতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার ঘোষণা দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স।

আলোচনা শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, আলোচনা ভেস্তে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি ‘খারাপ খবর’। ‘তেহরান আমাদের শর্তগুলো গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ তবে এই আলোচনা ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘চূড়ান্ত এবং সর্বোত্তম প্রস্তাব’ রেখে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। ‘এখন দেখা যাক, ইরান এটি গ্রহণ করে কি না,’ বলেন ভ্যান্স।

আলোচনা কেন ব্যর্থ হলো?

৪০ দিন যুদ্ধের পর শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সরাসরি আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। ইরানের পক্ষ নেতৃত্ব দেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। ২১ ঘণ্টা আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হওয়ার পর দুই দেশের প্রতিনিধিরাই রোববার ইসলামাবাদ ছেড়ে যান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি বরাতে এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাত্র এক বৈঠকেই কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব—এমন প্রত্যাশা কারও ছিল না।

আইআরআইবি দাবি করেছে, আলোচনার ব্যর্থতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবি’ই মূল বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি প্রতিনিধিদল টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনা চালিয়ে গেলেও মার্কিন পক্ষ এমন কিছু শর্ত দিয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ছিল না।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিল থেকে সরে যাওয়ার জন্য কার্যত ‘অজুহাত’ খুঁজছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছিল ওয়াশিংটন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানফাইল ছবি: রয়টার্স

ফার্স নিউজ আরও জানায়, হরমুজ প্রণালি, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো ছিল ‘অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী’, যা তেহরান মেনে নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকেরা ইরানকে এমন শর্ত দিয়েছে, যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমেও আদায় করতে পারেনি।

অন্যদিকে, জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট অঙ্গীকার চেয়েছিল। সেটা হলো—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চাইবে না এবং এমন কোনো প্রযুক্তি অর্জন করতে চাইবে না, যা তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম করে তুলবে।’

তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা করেছি এবং এর বাইরের বেশ কিছু বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবু এই আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।’

ভ্যান্স দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সদিচ্ছা নিয়েই এই আলোচনায় অংশ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলকে বলেছিলেন, “আপনাদের এখানে সদিচ্ছা নিয়ে আসতে হবে এবং চুক্তি করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে”। আমরা সেটাই করেছি। ওয়াশিংটন খুবই নমনীয় এবং খুবই সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করেছে।’

পাকিস্তানে ব্যর্থ আলোচনার পর কি হতে চলেছে?

আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এখন জরুরি প্রশ্ন হলো: এরপর কী হবে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের “একটি গোটা সভ্যতা” ধ্বংস করার উদ্বেগজনক হুমকি থেকে বিশ্বকে ফিরিয়ে আনা সেই বিতর্কিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির কী হবে?

গত সপ্তাহান্তে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনা যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি আনতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানে আবার বিমান হামলা শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বেনামি মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিমান হামলার পাশাপাশি আরও কিছু পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ, যা তিনি রোববারই ঘোষণা করেন।

প্রতিবেদনটির বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিবিসিকে বলা হয়, সব বিকল্পই খোলা আছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ইরানের চাঁদাবাজি বন্ধের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি বিচক্ষণতার সঙ্গে অন্য সব বিকল্প বিবেচনায় রেখেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেবেন, এ বিষয়ে কেউ যদি ওয়াল স্ট্রিট জার্নানকে কিছু বলে থাকেন, তা সম্পূর্ণই অনুমাননির্ভর।

রোববার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘একটি পর্যায়ে হরমুজ দিয়ে “সবাইকে ঢুকতে দেওয়া হবে এবং বের হতে দেওয়া হবে”—এমন অবস্থানে পৌঁছাব আমরা। কিন্তু ইরান সেটি হতে দিচ্ছে না।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি আমাদের নৌবাহিনীকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এমন প্রতিটি জাহাজকে খুঁজে বের করতে ও গতিরোধ করতে নির্দেশ দিয়েছি, যারা ইরানকে টোল (শুল্ক) দিয়েছে। যারা বেআইনিভাবে টোল দেবে, গভীর সমুদ্রে তাদের কোনো নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হবে না।’

এরপর ট্রাম্প ইরানকে আবারও ‘শেষ করে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন । ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ওয়াশিংটন যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ‘উপযুক্ত সময়ে’ ইরানকে ‘শেষ করে দেবে’ মার্কিন বাহিনী।

রোবাবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি বলেন, ‘ইরান তাদের পছন্দের দেশগুলোর কাছে তেল বিক্রি করে টাকা কামাবে—সেটা আমরা হতে দেব না। হয় সবাই সুযোগ পাবে, না হয় কেউ না; এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।’

ব্যর্থ আলোচনার পর ট্রাম্পের ভূমিকায় প্রধান আলোচ্য। ছবি: রয়টার্স

ট্রাম্প জানান, এই অবরোধ ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মতোই হবে, তবে এর পরিধি হবে অনেক বড়। এর ফলে আরও বেশি তেলবাহী ট্যাংকার তেল কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আসবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

একই সঙ্গে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি এক দিনেই ইরানকে গুঁড়িয়ে দিতে পারি… আমি তাদের পুরো জ্বালানি খাত, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ সব স্থাপনা ধ্বংস করে দিতে পারি, যা তাদের জন্য হবে বিশাল এক ধাক্কা।’

এর আগে ৭ এপ্রিল ট্রাম্প ইরানের পুরো সভ্যতা এক রাতেই ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন। তার ওই হুমকির পর বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠে। অনেকেই এমন হুমকিকে যুদ্ধাপরাধের মতো অপরাধ বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান জানালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চুক্তি হওয়া অসম্ভব নয় বলে মনে করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাপকালে পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও মনে করেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হওয়া এখনো সম্ভব। তবে তেহরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় একটি ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’ দিয়ে তিনি ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা আলোচনার এই সারসংক্ষেপ জানিয়েছেন।

ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া ভ্যান্স আলোচনা শেষে এই বিশ্বাস নিয়ে ফিরেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দরকষাকষিতে ইরানের হাতে ঠিক কতটা শক্তি আছে, সে বিষয়ে দেশটির শাসকদের মধ্যে ‘ভুল ধারণা’ রয়েছে।

আল জাজিরারা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দ্বন্দ্বের স্থায়ী অবসান ঘটাতে চলমান আলোচনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যদি মার্কিন সরকার তাদের কর্তৃত্ববাদী অবস্থান ত্যাগ করে এবং ইরানি জাতির অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, তাহলে অবশ্যই সমঝোতায় পৌঁছানোর পথ খুঁজে পাওয়া যাবে।’

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের প্রশংসা করে পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘আমি আলোচনাকারী দলের সদস্যদের, বিশেষ করে আমার প্রিয় ভাই ডক্টর গালিবাফকে অভিনন্দন জানাই। আমি বলব, সৃষ্টিকর্তা আপনাদের সহায় হোন।’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা বলেছেন, যেকোনো নৌ অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা নিশ্চিত।

হরমুজ প্রণালি অবরোধের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রেক্ষাপটে এ মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই।

মোহসেন রেজাই বলেন, যেভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে একটি ঐতিহাসিক পরাজয়ের মুখে পড়েছিল, তেমনিভাবে যেকোনো নৌ অবরোধের ক্ষেত্রেও তারা ব্যর্থ হতে বাধ্য।

মানচিত্রে হরমুজ প্রণালি। ছবি: রয়টার্স

সত্যি বলতে, অবরুদ্ধ ইসলামাবাদের একটি পাঁচতারা হোটেলে, গভীর রাত পর্যন্ত বন্ধ দরজার আড়ালে আসলে কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কে আমরা এখনও যথেষ্ট জানি না। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৪৭ বছরের শত্রুতার অবসান ঘটাতে একুশ ঘণ্টা যথেষ্ট ছিল না। সপ্তাহব্যাপী ভয়াবহ যুদ্ধের মাঝে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনার ফলাফল যে অন্যরকম হবে, তা আগে থেকেই অনিশ্চিত ছিল। কারণ একদিন আগেও দুই পক্ষের বৈঠক হবে কি না, তা-ই নিশ্চিত ছিল না; আর একই কক্ষে বসা তো দূরের কথা।

বিবিসি বলেছে, ইতিহাসের দিকে তাকালে জানা যাবে,  ২০১৫ সালে ইরান যখন শেষবার যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য বিশ্বশক্তির সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছেছিল, তখন তাতে ১৮ মাস ধরে নানা অগ্রগতি ও অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল।

ট্রাম্প এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি দীর্ঘস্থায়ী আলোচনায় আটকে থাকতে চান না। ভ্যান্স এর আগে সতর্ক করেছিলেন যে, তেহরান যদি ‘আমাদের সঙ্গে চালাকি’ করার চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাতে সায় দেবে না।

পাকিস্তানি সাংবাদিক কামরান ইউসুফ বলেছেন, এই দফায় ‘কোনো অগ্রগতি হয়নি, আবার কোনো অচলাবস্থাও তৈরি হয়নি’।

বিশ্ব এখন একটি চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর