মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পদচ্যুত করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান। তিনি অযোগ্যতার কারণে ট্রাম্পকে পদচ্যুত করতে বলেছেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বৃটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অযোগ্যতার কারণে ট্রাম্পকে পদচ্যুত করার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন ব্রেনান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী ট্রাম্পের কথা মাথায় রেখেই লেখা হয়েছিল।
মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর বিষয়বস্তু হলো অনিচ্ছাকৃতভাবে পদ থেকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণ করা।
ব্রেনান শনিবার (১৩ এপ্রিল) এমএস নাউকে এক সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানি সভ্যতা ধ্বংসের বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক মন্তব্য এবং এতে বহু মানুষের জীবনের ওপর সৃষ্ট ঝুঁকি তাকে পদচ্যুত করার যৌক্তিকতা তৈরি করেছে।
ট্রাম্প সম্পর্কে ব্রেনান বলেন, ‘এই ব্যক্তি স্পষ্টতই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন।’
ব্রেনান আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, ২৫তম সংশোধনী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মাথায় রেখেই লেখা হয়েছিল।’
ব্রেনানের মতে, ট্রাম্প এতটাই বড় ধরনের ঝুঁকি যে তাকে কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্বে রাখা উচিত নয়। কারণ তার হাতে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু অস্ত্রভান্ডারসহ বিপুল সামরিক শক্তি রয়েছে।
বারাক ওবামা প্রশাসনে সিআইএর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্রেনান।
গত ৭ এপ্রিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, যদি ইরানের সরকার তার দেওয়া আল্টিমেটাম না মানে, তবে ইরানের “পুরো সভ্যতা আজ রাতেই ধ্বংস হয়ে যাবে”। ব্রেনান এই উক্তি সম্পর্কে বলেন, এই হুমকি পারমাণবিক সক্ষমতা ব্যবহারের দিকে ইঙ্গিত করে।
ট্রাম্প তার আক্রমণাত্মক এবং কটূবাক্যের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ায়, অনেক ডেমোক্র্যাট ট্রাম্পের ওপর ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। ১৯৬৭ সালে মার্কিন সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত এই বিধানটি উপ-রাষ্ট্রপতি এবং মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যকে এই ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করার ক্ষমতা দেয় যে তিনি “তার পদের ক্ষমতা ও কর্তব্য পালনে অক্ষম”।
এনবিসি নিউজের সর্বশেষ গণনা অনুসারে, কংগ্রেসের ৭০ জনেরও বেশি ডেমোক্র্যাট এই সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
যদিও বাস্তবে এমনটা ঘটার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য, কারণ ট্রাম্পের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং তার পুরো মন্ত্রিসভা ট্রাম্পের প্রতি অবিচল আনুগত্য প্রদর্শন করে চলেছে। তবে, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় এবং নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনার কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা যে তলানিতে যেয়ে ঠেকবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।